খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৪৭ পিএম
সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দায়ের করা যেকোনো মামলা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কোনো গ্রাহক ব্যাংকিং খাত থেকে নীতি সহায়তা বা প্রণোদনা সুবিধা পাবেন না। আইনি জটিলতা হ্রাস করা এবং ঋণ সংক্রান্ত মামলাজট কমানোর লক্ষ্যে দেশের ব্যাংক বহির্ভূত ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকে এই নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
রবিবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট বিভাগ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সব ফাইন্যান্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে নির্দেশিকাটি পাঠানো হয়েছে। ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩-এর ৪১ ধারার ক্ষমতাবলে অবিলম্বে এটি কার্যকর করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা পুনর্গঠন, আর্থিক খাতকে স্থিতিশীল রাখা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময় আর্থিক প্রণোদনা ও নীতিগত ছাড় দেয়। অকৃষি, শিল্প ও সেবা খাতকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে এসব সুযোগ-সুবিধা নন-ব্যাংকিং ফাইনান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনগুলোর মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানো হয়। তবে পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, অনেক ক্ষেত্রে অসাধু বা সুবিধাবাদী গ্রাহক আর্থিক ছাড় নিলেও একই সাথে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট বা অন্যান্য মামলা অব্যাহত রাখছেন।
মামলা বিচারাধীন রেখে আর্থিক সুবিধা নেয়ার এই সংস্কৃতি ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘমেয়াদি আইনি জট তৈরি করছে। এতে সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং নিয়মিত আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে কোম্পানিগুলোর পরিচালনা ব্যয় বাড়ছে। এসব বিচারিক জটিলতা কাটাতে নতুন শর্ত আরোপ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ঘোষিত নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়, ভবিষ্যতে কোনো আর্থিক সহায়তা বা প্রণোদনা পেতে হলে আবেদনকারী গ্রাহককে প্রথমে সরকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে করা সকল মামলা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করতে হবে। প্রণোদনার আবেদন মূল্যায়নের সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান গ্রাহককে মামলা প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট শর্ত দেবে।
শর্ত পূরণের প্রমাণ হিসেবে গ্রাহককে একটি আইনি হলফনামা জামানত হিসেবে জমা দিতে হবে। এতে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে:
সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট ফাইনান্সিয়াল কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো মামলা অনিষ্পন্ন বা বিচারাধীন নেই।
অতীতে দায়ের করা যেসব মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা।
ভবিষ্যতে এই আর্থিক সুবিধার বিপরীতে নতুন করে কোনো রিট দায়ের করা হবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গ্রাহক যথাযথভাবে হলফনামা জমা দেওয়ার পর ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো আগে অনুমোদিত নীতি সহায়তার মূল শর্তাবলি ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করতে পারবে না। নীতিগত সম্মতির ভিত্তিতে গ্রাহককে প্রাপ্য প্রণোদনা বুঝিয়ে দেওয়া ফাইন্যান্স কোম্পানির জন্য বাধ্যতামূলক থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কড়া অবস্থানের ফলে আর্থিক খাতে ঝুলে থাকা মামলা দ্রুত নিস্পত্তি হবে এবং প্রকৃত ব্যবসায়ীরা আইনি ঝামেলামুক্তভাবে ব্যবসা সচল রাখার পথ পাবেন।
মন্তব্য