খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
মৌলভীবাজারে স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুচ্ছ বিবাদের জেরে ‘মামা’ পরিচয়ে এক ব্যক্তি বিদ্যালয়ে ঢুকে ১২ জন ছাত্রকে মারধর করেছেন। এই ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের সাধুহাটি আব্দুল বারী উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন এরশাদ মিয়া, যিনি পূর্ব সাধুহাটি গ্রামের প্রয়াত মেম্বার ইছমাইল মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় আহত এক শিক্ষার্থীর মা হাছনা বেগম মৌলভীবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয়ে ঝামেলা চলছিল। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার বিকেলে স্কুলের সামনের রাস্তায় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষ হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঐ সময় এরশাদ মিয়া নামে এক ব্যক্তি হাতে কাঠের রোল নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তামিম আহমেদ ও হানিফ মিয়াকে পিটিয়ে আহত করেন। এ ছাড়া আরও অনেকে আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন জাহান আহমেদ, সোহাগ মিয়া, আরিয়ান আহমেদ, তানিম আহমেদ, সালেহ আহমেদ, হুসাইন আহমেদ, হাসান আলি, মারুফ মিয়া, জিহান আহমেদ, হাবিব আহমেদ, এস এম হানিফ এবং তামিম আহমেদ।
আহত শিক্ষার্থী হানিফের চাচা সুমন আহমদ বলেন, “পরীক্ষার আগে স্কুলের বন্ধুদের মধ্যে সামান্য ঝগড়া হয়। তারা পরীক্ষা দিতে যায় এবং পরীক্ষা শেষে বের হলে এক ছাত্রের মামা পরিচয় দিয়ে একজন এসে ১৫-২০ জন ছাত্রকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে আমার ভাতিজা হানিফ গুরুতর আহত হয়। আরেক শিক্ষার্থী সোহাগের মাথায় পাঁচটি সেলাই লেগেছে।”
এ বিষয়ে সাধুহাটি আব্দুল বারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিনাশ চন্দ্র দে বলেন, “হামলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আঘাত পেয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। যিনি মারধর করেছেন, তার ভাগ্নে এই স্কুলেরই ছাত্র।”
মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মো. মাহবুব বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি এবং তদন্ত শুরু করেছি। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
খবরওয়ালা/টিএসএন