দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে অষ্টম শ্রেণির এক ১৪ বছর বয়সী কিশোরীর বাল্যবিবাহের আয়োজন পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বন্ধ করা হয়েছে। ঘটনার সময় কিশোরীর মা বিষয়টি জানতে পেয়ে মুঠোফোনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো এবং মেয়ের বাল্যবিবাহ রোধে সহায়তা চাওয়া। ঘটনা ঘটে রবিবার রাত নয়টার দিকে।
বাল্যবিবাহের পরিকল্পনা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিশোরী ওই এলাকার একটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত সপ্তাহে তার বাবা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাগর ইসলামের সঙ্গে মেয়ের বিয়ের দিন ঠিক করেন। রবিবার রাতে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু কিশোরীর মা বিয়েতে রাজি ছিলেন না। তিনি তার স্বামীকে মেয়ের বাল্যবিবাহ না দিতে একাধিকবার অনুরোধ করেন। এ নিয়ে দম্পতির মধ্যে বাগবিতণ্ডা পর্যন্ত হয়। রবিবার রাতে বরপক্ষ কিশোরীকে বিয়ে করতে বাড়িতে আসার খবর পান মা। তখনই তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান।
প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপ
মায়ের ফোনকল পেয়ে ইউএনও সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ গ্রামে পাঠান। পুলিশ এসে গ্রামে অবস্থান নেয় এবং বিয়ের আয়োজন বন্ধ করতে সক্ষম হয়। পুলিশ কিশোরীর জন্মনিবন্ধন সনদ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে এবং প্রমাণ করে যে মেয়েটির বয়স ১৮ বছরের নিচে। সুতরাং বাল্যবিবাহ অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
পুলিশ কিশোরীর বাবাকে সতর্ক করে বলেন, মেয়ের বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে করা যাবে না। এছাড়া পরিবারের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কিশোরীর পড়াশোনা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য।
ঘটনার বিশদ
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| কিশোরীর বয়স | ১৪ বছর |
| বিদ্যালয় | স্থানীয় মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, অষ্টম শ্রেণি |
| পরিকল্পিত বরপক্ষ | গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাগর ইসলাম |
| ঘটনা তারিখ ও সময় | রবিবার রাত ৯টা |
| প্রশাসনের পদক্ষেপ | ইউএনও ও পুলিশ গ্রামে উপস্থিত, বিয়ে বন্ধ |
| আইনানুগ ফলাফল | বাল্যবিবাহ স্থগিত, বাবা সতর্ক |
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে বরপক্ষকে পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, পরিবারের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে মেয়ের শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না করার বিষয়ে।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে সচেতন পরিবার এবং প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



