মায়ের মৃত্যুর ৩৬ বছর পর বাবার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

খুলনায় মায়ের মৃত্যুর ৩৬ বছর পর বাবা ডা. শেখ বাহারুল আলমের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা করেছেন তার মেয়ে শেখ তামান্না আলম। ডা. বাহারুল আলম বর্তমানে এপিসি ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান। তিনি খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সাবেক সভাপতি। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনার বর্তমান সভাপতি।

অভিযোগকারী শেখ তামান্না আলম খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার কেডিএ এপ্রোচ রোডের বাসিন্দা।

গত ৯ সেপ্টেম্বর খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সোনাডাঙ্গা আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেন তামান্না। তবে বিষয়টি সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। মামলার বিষয়টি তামান্না নিজেই নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে তামান্না অভিযোগ করেন, ১৯৮৯ সালের ১৩ নভেম্বর রাতে তৎকালীন খ্যাতনামা গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সামসুন্নাহার মিলনের গলায় রশি বাঁধা অবস্থায় লাশ পাওয়া যায়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ডা. শেখ বাহার তার স্ত্রী সামসুন্নাহারকে হত্যা করে তা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেন। তামান্না আলম অভিযোগে বলেন, ‘রাজনৈতিক ও পেশাগত পরিচয়ে অত্যন্ত প্রভাবশালী বাবার পরকীয়া এবং নির্মম শারীরিক নির্যাতনের ফলে আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে।’

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে হলেও পরবর্তীতে ডা. বাহারুল আলম একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক জড়িয়েছিলেন। এর ফলে দাম্পত্য জীবনে কলহ দেখা দেয়। সামসুন্নাহার তার দুই কন্যাকে অস্ট্রিয়ায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কিন্তু মেয়েদের নিয়ে বিদেশে যেতে না পারার আশঙ্কায় বাহার তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন।

ঘটনার বিবরণে বলা হয়েছে, ১৯৮৯ সালের সেই রাতে দম্পতির ঝগড়ার সময় তামান্না পাশের রুমে ছিলেন। ভোরে তাকে ডেকে আনেন এবং তার মাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখান বাহারুল আলম। পরে ডা. বাহারুল আলম নিজে মৃত ঘোষণা করেন এবং তার তত্ত্বাবধানে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

তামান্না দাবি করেছেন, ‘বিদেশে লেখাপড়া শেষে বিয়ে করে কানাডায় স্থায়ী হওয়ার পর দেশে ফিরে বাবার নানা কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাই। নানা অপকর্মের ধারাবাহিকতায় মনে হয় আমার মাকে হত্যা করে তা আত্মহত্যা বলে প্রচারণা চালানো হয়েছে। আমি আমার মায়ের হত্যার বিচার এবং সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’

অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. শেখ বাহারুল আলম বলেন, ‘আমার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছিলেন। সেদিন সোনাডাঙ্গা থানার ওসি নিজেই ফোর্স নিয়ে এসে লাশ নামান এবং তৎকালীন সিভিল সার্জনের উপস্থিতিতে সুরতহাল ও পোস্টমর্টেম হয়। তখন আমাদের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ ওঠেনি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার স্ত্রীর একটি আত্মহত্যার নোট রয়েছে, যা আদালতে হাজির করার জন্য সিআইডিকে অনুরোধ করবেন।

 

খবরওয়ালা/শরিফ

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।