খাগড়াছড়ির পানছড়িতে নানাবাড়ি থেকে মায়ের সঙ্গে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তানিয়া আক্তার (১২) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে উল্টে পড়লে গাড়িটির নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারায় সে। এ ঘটনায় শিশুটির মা, বড় বোন ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক সদস্য আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পানছড়ি উপজেলার লতিবান ইউনিয়নের প্রিন্সিপাল পাড়া সড়কে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তানিয়া আক্তার খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ির পুরোনো বড়নাল এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ও ডেইজি আক্তারের ছোট মেয়ে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নানাবাড়ি থেকে ফেরার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয় সে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তানিয়া তার মা ডেইজি আক্তার (৩৫) ও বড় বোন আঁখি আক্তারের (১৭) সঙ্গে পানছড়ির পাইলট ফার্ম এলাকা থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় খাগড়াছড়ি সদরের উদ্দেশে রওনা দেয়। একই অটোরিকশায় বিজিবি সদস্য আবদুর রাজ্জাকও যাত্রী হিসেবে ছিলেন।
যাত্রাপথে অটোরিকশাটি লতিবান ইউনিয়নের প্রিন্সিপাল পাড়া এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এ সময় গাড়িটি উল্টে গেলে এর নিচে চাপা পড়ে তানিয়া। দুর্ঘটনায় তার মা, বড় বোন এবং বিজিবি সদস্য আবদুর রাজ্জাকও আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশও সেখানে পৌঁছায়। পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তানিয়াকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। নানাবাড়ি থেকে মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে এমন আকস্মিক দুর্ঘটনায় শিশুটির জীবন থেমে যায়।
এদিকে দুর্ঘটনায় আহত তানিয়ার মা ডেইজি আক্তার, বড় বোন আঁখি আক্তার ও বিজিবি সদস্য আবদুর রাজ্জাকের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের আঘাত কতটা গুরুতর কিংবা পরবর্তী চিকিৎসার জন্য অন্য কোনো হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহত শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহত তানিয়া আক্তারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অটোরিকশাটি ঠিক কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির গতি কত ছিল কিংবা সড়কের কোনো সমস্যার কারণে এটি ঘটেছে কি না, তা-ও জানা যায়নি।
পাহাড়ি অঞ্চলের সড়কে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। অনেক এলাকায় আঁকাবাঁকা পথ, ঢালু রাস্তা এবং সড়কের পাশের গভীর খাদ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে পানছড়ির এ দুর্ঘটনার সঙ্গে এসব পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নানাবাড়ি থেকে মা ও বড় বোনের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই ফিরছিল তানিয়া। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই অটোরিকশা দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ১২ বছরের শিশুটি। পরিবারের অন্য দুই সদস্য আহত অবস্থায় উদ্ধার হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি তাকে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ না হওয়ায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে নতুন কোনো তথ্য জানানো হয়নি।


