খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই বল হাতে অবিশ্বাস্য এক তাণ্ডব চালালেন বাংলাদেশের তরুণ গতি তারকা নাহিদ রানা। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে স্বাগতিক ব্যাটারদের একাই গুঁড়িয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। গতি আর সুইংয়ের মায়াজালে জিম্বাবুয়েকে অলআউট করার পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে ওয়ানডে ফরম্যাটে সেরা বোলিং ফিগারের নতুন রেকর্ড এখন এই তরুণ পেসারের দখলে। তাঁর এমন বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ৩৬.৪ ওভারে মাত্র ১৪১ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস।
ম্যাচে নিজের কোটার ১০ ওভার বল করে মাত্র ২১ রান খরচায় ৬টি উইকেট তুলে নেন নাহিদ রানা। ওয়ানডে ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশি বোলারের ক্ষেত্রে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কিপটে এবং সেরা বোলিং স্পেল। রানার এই আগুন ঝরানো বোলিংয়ের দিনে জিম্বাবুয়ের কোনো ব্যাটারই উইকেটে থিতু হতে পারেননি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থ বজায় রেখে তিনি স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনে ধস নামান।
নাহিদ রানার এই অবিস্মরণীয় কীর্তির আগে বাংলাদেশের পক্ষে ওয়ানডেতে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডটি যৌথভাবে ছিল সাবেক সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং তারকা পেসার রুবেল হোসেনের দখলে। ২০০৬ সালে নাইরোবিতে কেনিয়ার বিপক্ষে ১০ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৬টি উইকেট শিকার করেছিলেন নড়াইল এক্সপ্রেস মাশরাফি। এর ঠিক সাত বছর পর, ২০১৩ সালে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রুবেল হোসেন মাত্র ৫.৫ ওভার বল করে ২৬ রান খরচায় ৬টি উইকেট নিয়েছিলেন, যার মধ্যে একটি হ্যাটট্রিকও ছিল। এত বছর ধরে অক্ষত থাকা দেশের দুই কিংবদন্তি পেসারের সেই কীর্তিকে আজ ডেল স্টেইনের গতিতে টপকে গেলেন নাহিদ রানা। তিনি ৫ রান কম খরচ করে মাশরাফি ও রুবেলকে তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নাহিদ রানার আগমন খুব বেশি দিনের নয়। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ১৪৫-১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করে নির্বাচকদের নজরে এসেছিলেন এই ডানহাতি ফাস্ট বোলার। হারারের পেস-সহায়ক উইকেটে আজ শুরু থেকেই সেই গতির ঝড় তোলেন তিনি। প্রথম পাওয়ার প্লে-তেই জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডারকে কাঁপিয়ে দেওয়ার পর মিডল অর্ডারেও কোনো জুটি গড়তে দেননি। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটের আধুনিক যুগে ১০ ওভার বল করে মাত্র ২.১ ইকোনমি রেটে ৬ উইকেট নেওয়া যেকোনো বোলারের জন্যই স্বপ্নের মতো এক স্পেল।
বাংলাদেশ দলের এমন দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্স সিরিজ শুরুর আগেই পুরো দলকে দারুণভাবে উজ্জীবিত করল। জিম্বাবুয়ের মাটিতে তাদেরই মাত্র ১৪১ রানে আটকে দেওয়ায় প্রথম ওয়ানডেতে জয়ের পথটা এখন অনেকটাই সহজ বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য। রুবেল ও মাশরাফির মতো তারকাদের পেছনে ফেলে নাহিদের এই অগ্রযাত্রা দেশের ক্রিকেটে এক নতুন পেস যুগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভক্তদের আশা, এই ফর্ম ধরে রেখে রানা আগামী দিনেও লাল-সবুজের জার্সিকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।
মন্তব্য