খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ১২:২২ পিএম
তিন দশকেরও বেশি সময় পর নতুন সংগীতায়োজনের মাধ্যমে আবারও শ্রোতাদের সামনে এসেছে ব্যান্ড রেনেসাঁর বহুল প্রশংসিত গান ‘আজ যে শিশু’। নতুন এই পরিবেশনায় একসঙ্গে কণ্ঠ ও সৃজনশীলতায় যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের চার প্রজন্মপ্রিয় শিল্পী—পিলু খান, নকীব খান, পার্থ বড়ুয়া ও বাপ্পা মজুমদার। নতুন সংগীত বিন্যাস করেছেন পার্থ বড়ুয়া। গত ২৯ জুন থেকে গানটি পার্থ বড়ুয়া অ্যান্ড সোলসের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে।
‘আজ যে শিশু’ গানটির কথা লিখেছিলেন শহীদ মাহমুদ জঙ্গী এবং সুর করেছিলেন পিলু খান। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯৩ সালে রেনেসাঁ ব্যান্ডের দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘তৃতীয় বিশ্ব’-এ। অ্যালবাম প্রকাশের আগেই গানটি লেখা ও সুরারোপ করা হয়েছিল। সময়ের ব্যবধানে গানটি শুধু ব্যান্ডটির নয়, বরং বাংলা ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম স্মরণীয় সৃষ্টি হিসেবে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে।
নতুন সংস্করণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নকীব খান জানান, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য কোনো বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন নয়। বরং শিশুদের অধিকার, তাদের নিরাপত্তা এবং সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে নতুন করে মানুষের সামনে তুলে ধরাই ছিল মূল লক্ষ্য।
তার ভাষ্য, কালজয়ী গান নতুনভাবে পরিবেশন করার ঘটনা নতুন নয়। তবে ‘আজ যে শিশু’-এর এই সংস্করণ তৈরির পেছনে একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা কাজ করেছে। শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং সমাজে এ বিষয়ে আরও সচেতনতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নকীব খান আরও বলেন, গানটি রচিত হয়েছিল তিন দশকেরও বেশি আগে। কিন্তু সময় বদলেও এর মূল বক্তব্যের গুরুত্ব একটুও কমেনি। বর্তমান বাস্তবতায়ও শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো সামনে আসে, সেই প্রেক্ষাপটে গানটির আবেদন আজও সমান প্রাসঙ্গিক।
এই নতুন পরিবেশনায় অংশ নেওয়া শিল্পী বাপ্পা মজুমদারও গানটির দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তার কারণ হিসেবে এর সুর ও কথার শক্তির কথা উল্লেখ করেছেন। তার মতে, কিছু গান সময়ের গণ্ডি অতিক্রম করে সব প্রজন্মের মানুষের কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। ‘আজ যে শিশু’ তেমনই একটি সৃষ্টি। এর সুর যেমন সহজেই শ্রোতার মন ছুঁয়ে যায়, তেমনি গানের কথাগুলো গভীর আবেগ ও সামাজিক বার্তা বহন করে।
তিনি বলেন, নকীব খান, পার্থ বড়ুয়া এবং পিলু খানের সঙ্গে এই গানটির নতুন সংস্করণে কাজ করার আমন্ত্রণ পাওয়ার পর এক মুহূর্তও দ্বিধা করেননি। কারণ, এমন একটি অর্থবহ ও সময়োপযোগী গানে যুক্ত হওয়াকে তিনি বিশেষ সম্মানের বিষয় হিসেবে দেখেছেন।
নতুন সংগীত বিন্যাসে পার্থ বড়ুয়া মূল গানের আবেগ, সুরের আবেদন এবং বার্তাকে অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে সমসাময়িক সংগীতের উপস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বাদ্যযন্ত্র ও সংগীতায়োজনের মাধ্যমে গানটিকে বর্তমান প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে রেনেসাঁর অবদান দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। তাদের অনেক গান কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং সমাজ, মানুষ এবং সময়ের নানা বাস্তবতা তুলে ধরেছে। ‘আজ যে শিশু’ সেই ধারারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ, যেখানে সংগীতের মাধ্যমে শিশুদের ভবিষ্যৎ, অধিকার ও মানবিক মূল্যবোধের কথা বলা হয়েছে।
তিন দশক পর নতুন আয়োজনে ফিরে আসা এই গান প্রমাণ করে, একটি ভালো সৃষ্টির আবেদন কখনও সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যায় না। বরং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অংশগ্রহণ এবং আধুনিক সংগীত বিন্যাসের মাধ্যমে এমন কালজয়ী গান আরও বিস্তৃত শ্রোতামহলে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে গানটি আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়, শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের জন্য নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার দায়িত্ব কখনও পুরোনো হয়ে যায় না।
মন্তব্য