খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ও নৃশংস ঘটনায় শফিকুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুরো গ্রাম শোক ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমারগাতা ইউনিয়নের শ্যামপুর ঘোষবাড়ী (পুলিশ মোড়) এলাকায়। নিহত শফিকুল ইসলাম কাশেম আলীর বড় ছেলে এবং পরিবারের প্রধান আহ্বায়ক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে শফিকুল ইসলাম নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। রাত প্রায় ১১টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত তার বাড়িতে প্রবেশ করে এবং আকস্মিকভাবে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা একাধিক ছুরিকাঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা আহত শফিকুলকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু ঘটে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়রা বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকা আতঙ্কিত। শিশুসহ বয়স্করা রাতের বেলা ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। কেউ কেউ পুলিশের দফতর ঘিরে রাখলেও অপরাধীরা এখনও শনাক্ত হয়নি।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও দাবি:
| নাম | বক্তব্য | পেশা/সম্পর্ক |
|---|---|---|
| আবুল হোসেন | “আমরা হত্যাকারীদের দ্রুত ধরার এবং সুষ্ঠু বিচার চাই। এ ধরনের নৃশংসতা সমাজের জন্য হুমকি।” | ভ্যানচালক |
| লাইলী আক্তার | “কোনো হত্যাই কাম্য নয়। দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাজ চাই।” | স্থানীয় বাসিন্দা |
| মোছা. রেহানা | “এভাবে আমাদের মানুষ হারানো অত্যন্ত দুঃখজনক। আশা করি পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।” | স্থানীয় নারী |
পুলিশের পদক্ষেপ ও অনুসন্ধান:
মুক্তাগাছা থানার ওসি মো. লুৎফুর রহমান বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।” অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তের জন্য বিস্তারিত অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং প্রাথমিকভাবে পরিবারের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।”
এ ঘটনায় শ্যামপুর ঘোষবাড়ী এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ এলাকায় পেট্রোলিং ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার হবে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রভাব গ্রামে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পরিবারের শোক ও গ্রামের আতঙ্কের মধ্যে পুলিশ ও প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশিত।