টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর সেঁজুতি নামের এক শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের পুকুর থেকে স্থানীয়রা শিশুটির মরদেহ ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।
নিহত সেঁজুতি পৌরসভার একটি ওয়ার্ডের মন্দিরপাড়া এলাকার ফালু চন্দ্র মালুর কন্যা। সে স্থানীয় একটি শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিল। পরিবার ও প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি অত্যন্ত শান্ত ও পড়াশোনায় মনোযোগী ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকেল চারটার পর থেকে সেঁজুতি নিখোঁজ হয়। সে সময় থেকে পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। বিষয়টি পরে স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে।
ঘটনার পরপরই ওই দিন রাতে শিশুটির বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, পরদিন রাতে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসে এবং শিশুটিকে ফেরত দেওয়ার কথা বলে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ফোন পাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই পরদিন সকালে মরদেহ উদ্ধারের খবর আসে।
স্থানীয়দের মতে, পুকুরে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ দেখতে পেয়ে তারা প্রথমে নিশ্চিত হতে পারেননি, পরে কাছে গিয়ে বিষয়টি শিশু সেঁজুতির বলে শনাক্ত করেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।
শিশুটির বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাঁর নিষ্পাপ মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং পরে লাশ পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেলার প্রধান হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মুক্তিপণ দাবির বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উন্মোচনের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা
সময়কাল
ঘটনা
শনিবার বিকেল
শিশু সেঁজুতি নিখোঁজ হয়
শনিবার রাত
পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করে
রোববার রাত
অজ্ঞাত নম্বর থেকে মুক্তিপণ দাবি করা হয়
সোমবার সকাল
উপজেলা পরিষদ পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ বলছে, সব সম্ভাব্য দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত এগিয়ে চলছে।
মন্তব্য