খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার বিকেলে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের হাসাড়া-বাড়ৈখালী সড়কের লস্করপুর এলাকায় গুলিস্তানগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ও বিপরীত দিক থেকে আসা মালবাহী নছিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহত দুজন হলেন শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী ইউনিয়নের মদনখালী এলাকার আইয়ুব মিয়ার ছেলে এবং নছিমনচালক মজনু (৩০) ও একই উপজেলার খাড়া মুনিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাধন চন্দ্রের ছেলে দুলাল চন্দ্র (৪৫)।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্র এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দুর্ঘটনাটির সূত্রপাত হয়। বাড়ৈখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা গুলিস্তানগামী ‘বৈশাখী পরিবহন’-এর একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস লস্করপুর এলাকা অতিক্রম করছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে আসা মাল বোঝাই থ্রি-হুইলার গাড়ি নছিমনটির সঙ্গে বাসটির জোরালো মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের মাত্রা এতই তীব্র ছিল যে নছিমনটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এর চালক ও সাথে থাকা যাত্রীরা রাস্তায় ছিটকে পড়েন। বিকট শব্দ শুনে আশপাশের উৎসুক স্থানীয় জনতা দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল এবং স্থানীয় থানা-পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, বিকেল ৫টা ৩৬ মিনিটে তারা দুর্ঘটনার সংবাদ পান। ফায়ার সার্ভিসের টিম ও পুলিশ সদস্যরা স্থানীদের সহায়তায় মুমূর্ষু অবস্থায় নছিমনচালক মজনু, যাত্রী দুলাল চন্দ্রসহ তিনজনকে উদ্ধার করেন। তাদের দ্রুত শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মজনু ও দুলালকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় আহত অপর ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালেই জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সরু এই আঞ্চলিক সড়কে দ্রুত গতিতে যানবাহন চলাচল করা এবং অবৈধ থ্রি-হুইলার নছিমন-করিমন বেপরোয়াভাবে চালানোর কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনার পর পর ওই এলাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও নছিমনটি সড়ক থেকে সরিয়ে নিলে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়। নিহতদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।