জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে পরাজয়ের হতাশা কাটিয়ে ওঠার আগেই আরও একটি বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ দল। বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে শুধু সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে থেকেই নয়, পুরো টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকেও ছিটকে গেছেন। ফলে সফরের মাঝপথেই দলবদলের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি)।
বিসিবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানানো হয়েছে, তৃতীয় ওয়ানডের জন্য মুস্তাফিজের পরিবর্তে অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ। মুস্তাফিজ দেশে ফিরে চিকিৎসক ও ফিজিওদের তত্ত্বাবধানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন।
দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে অনুশীলনের সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে অস্বস্তি অনুভব করায় সেই ম্যাচেও খেলতে পারেননি মুস্তাফিজ। পরবর্তী পরীক্ষার পর বোঝা যায়, তাকে নিয়ে ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে না। তাই পুরো সফরের বাকি অংশ থেকে তাকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে দীর্ঘদিনের অন্যতম নির্ভরযোগ্য এই পেসারের অনুপস্থিতি দলের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মুস্তাফিজের ছিটকে যাওয়ার ফলে পরিকল্পনায়ও পরিবর্তন আনতে হয়েছে তাসকিন আহমেদকে। শুরুতে তিনি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে ছুটি নিয়েছিলেন, কারণ একই সময়ে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল)-এ অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি ছিল তার। কিন্তু জাতীয় দলের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেই ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং তাকে টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে ডাকা হয়েছে।
অন্যদিকে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশকে বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও অতিরিক্ত ভারসাম্য দিতে পারে। নতুন বলে সুইং করানোর পাশাপাশি নিচের দিকে কার্যকর ব্যাটিং করার সক্ষমতা থাকায় তিনি একাদশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
এই সফরে চোটের সমস্যায় বাংলাদেশকে একাধিকবার দল পুনর্গঠন করতে হয়েছে। এর আগে অধিনায়ক লিটন দাসও ইনজুরির কারণে ওয়ানডে সিরিজ থেকে ছিটকে যান। তার পরিবর্তে দলে নেওয়া হয় ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনকে। ফলে সফরের মাঝপথেই একাধিক পরিবর্তন এনে দলকে নতুন সমন্বয়ে খেলতে হচ্ছে।
এদিকে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচ হেরে ইতোমধ্যেই সিরিজ হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ। এখন শেষ ম্যাচে জয়ের মাধ্যমে অন্তত সান্ত্বনার ফল নিয়ে ওয়ানডে অধ্যায় শেষ করার লক্ষ্য থাকবে টাইগারদের। তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে হারারেতে।
ওয়ানডে সিরিজ শেষ হওয়ার পর দুই দল মুখোমুখি হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে। সিরিজের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৫ জুলাই। পরবর্তী দুটি ম্যাচ যথাক্রমে ১৭ ও ১৯ জুলাই। তিনটি ম্যাচই হবে বুলাওয়েতে। টি-টোয়েন্টি সিরিজে নতুন সমন্বয়ে মাঠে নেমে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা থাকবে বাংলাদেশের।