অনিন্দ্য আকাশ
প্রকাশ: ৫ই জুলাই ২০২৫, ৯:২৮ এএম
আমি ভাবতেই পারিনি আমার ওপর কাফকার এমন প্রভাব পড়বে। কাফকা আমার প্রিয় লেখক। কিন্তু তার মতো পোকা হয়ে যাওয়ায় আমি কখনো বিশ্বাস করতাম না। মানুষ কেন পোকা হয়ে যাবে! মানুষ বরং অ্যাঞ্জেল হয়ে যেতে পারে। আর ডেভিল হলে তো সে নরকে অনন্তকাল জ্বলবে। না, সে ডেভিল হতে পারে না। আর মানুষ ডেভিল হয় না, এর প্রমাণ তো সম্প্রতিও আমরা পেয়েছি।
আমাদের সেনাবাহিনী ডেভিল হান্ট করতে মাঠে নেমেছিল। চিরুনি অভিযান চালিয়েও একটা ডেভিল খুঁজে পায়নি। তারা প্রমাণ করেছে—এই দেশে কোনো ডেভিল নেই। সব ডেভিল পালিয়েছে। তারা ডেভিল খুঁজে না পাওয়ায় মানুষ বিশ্বাস করতে পারেনি। মানুষ নিজেরাই ডেভিল খুঁজে বের করতে নেমেছে। তবে তারা তো ডেভিল চেনে না। তারা যাকে ডেভিল মনে করছে, ধরে নিয়ে আসছে। তারা জানে, ডেভিল মানুষের রূপ ধারণ করেও থাকতে পারে। কোথায় কোন ডেভিল মানুষের রূপ ধারণ করে বসে আছে, সেটা বোঝার উপায় নেই।
এমন একটা অবস্থায় আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। আর বই পড়ে আতঙ্ক ভুলে থাকার চেষ্টা করছিলাম। পছন্দের লেখক আর বই খুঁজতে গিয়ে কাফকার কথা মনে পড়েছিল। মেটামরফোসিস হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করেছিলাম। না, মানুষের পোকা হয়ে যাওয়া আমার পছন্দ নয়। আমি বিশ্বাসও করি না মানুষ পোকা হয়ে যায়। বিষয়টা নিয়ে আমি প্রতিদিন ভাবছিলাম। এখন তো অবসরে, ভাবনা ছাড়া আর আমার কোনো কাজ নেই।
মাঝে মাঝে টেলিভিশন দেখতাম। কিছুক্ষণ দেখার পর আর দেখতে পারতাম না। সহ্য করতে পারতাম না। এসব কী করে সহ্য করি! একসময় মনে হতে লাগল, যদি ওরা এখানে আসে? যদি আমাকে ডেভিল মনে করে পেটানো শুরু করে! আমি তখন ভাবতে শুরু করি—কাফকার মতো নিজের রূপান্তর ঘটাতে পারলে বেঁচে যেতাম।
দুটো ভাবনাই আমাকে পেয়ে বসেছিল। কদিন আমি আর ঘুমাতে পারিনি। কিন্তু কাউকে বলতেও পারিনি। আসলে বলতে চাইনি।
কিন্তু গতরাতে আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘুম ভেঙে গিয়ে আমি বিস্মিত হলাম। আমি নিজেকে এক মরুভূমিতে আবিষ্কার করি। কীভাবে সেখানে পৌঁছেছি জানি না। নিজের দিকে তাকিয়ে দেখি আমি একটা মেষ হয়ে গেছি। আর চারপাশে তাকিয়ে আতঙ্কিত হয়ে যাই। চারপাশে অসংখ্য নেকড়ে। ওরা আমাকে খেয়ে ফেলবে। আমি যতই ভাবছি, ‘এটা স্বপ্ন হলে ভালো হতো।’ কিন্তু এটা বাস্তব—আমি সত্যি মেষ, আর আমার চারপাশে অনেকগুলো নেকড়ে।
খবরওয়ালা/এমএজেড
মন্তব্য