মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা এলাকা থেকে ল্যান্ডমাইনসদৃশ ১০টি বস্তু এবং পাঁচটি ধাতব বক্স উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামে পরিত্যক্ত ও কৃষি জমিতে মাটি খোড়ার সময় স্থানীয় কৃষকরা এসব বস্তুর সন্ধান পান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বেতবাড়িয়া গ্রামের মৃত আবুল মালিথার ছেলে কাঁদো মালিথা তাঁর নিজের জমিতে কৃষিকাজ করছিলেন। একপর্যায়ে কোদাল দিয়ে মাটি খোড়ার সময় শক্ত কোনো ধাতব বস্তুর সঙ্গে আঘাত লাগে। কৌতূহলবশত মাটি আরও খানিকটা সরাতেই পর পর বেশ কয়েকটি গোল আকৃতির ধাতব বস্তু দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে মাটির নিচে তল্লাশি চালিয়ে একে একে ১০টি ল্যান্ডমাইনসদৃশ বস্তু এবং ল্যান্ডমাইন রাখার পাঁচটি খালি বক্স অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
সীমান্তবর্তী গ্রামে ধাতব এসব বস্তু পাওয়ার খবর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে কৌতুহলী শত শত মানুষ দুর্ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সুরক্ষার স্বার্থে স্থানীয়রা গাংনী থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পাওয়ার পরপরই বামুন্দী পুলিশ ক্যাম্পের একটি দল দ্রুত সেখানে গিয়ে স্থানটিকে লাল ফিতা দিয়ে ঘিরে দেয় এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেয়।
বামুন্দী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই জহুরুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া এই বস্তুগুলো আসলেই সক্রিয় কোনো যুদ্ধাস্ত্র বা ল্যান্ডমাইন কি না, নাকি অনেক পুরনো যুগের কোনো পরিত্যক্ত মেটাল, তা খালি চোখে নিশ্চিত হওয়া কঠিন। যে কারণে সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবে এগুলোর কাছাকাছি না যান, সেই বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) শিমুল কুমার দাস বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিয়েছে। উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিষ্ক্রিয় করার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কিংবা পুলিশের বিশেষায়িত বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে ইতিমধ্যে খবর পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এগুলো পরীক্ষা করার পরই বস্তুগুলোর মূল ধরণ ও কার্যক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া সম্ভব হবে।
মন্তব্য