খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ৩:৫৯ পিএম
গাজা উপত্যকায় গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলা পুরোপুরি থামেনি। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৫৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ১৩১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে আগের ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া দুই ফিলিস্তিনির মরদেহ নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে নতুন হামলায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও গাজায় নিয়মিত হামলা ও হতাহতের ঘটনা ঘটছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। হামলার কারণে আহতদের চিকিৎসা, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধান—সবকিছুই যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডটির স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
তবে গাজায় বর্তমান হতাহতের সংখ্যা শুধু যুদ্ধবিরতি-পরবর্তী সময়ের চিত্র নয়; ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ওই তারিখ থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মোট ৭৩ হাজার ৩৮৪ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ২৪২ জন।
দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধবিরতি, সেনা প্রত্যাহার, গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা এবং হামাসের অস্ত্র রাখার বিষয়টি এখন আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েল গাজা উপত্যকা থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হবে না।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ এ অবস্থান স্পষ্ট করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি ইসরায়েলের গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলটির পুনর্গঠনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
গাজি হামাদ বলেন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, তা একক কোনো পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাবে না। এর সঙ্গে গাজার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, পুনর্গঠন এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রশ্নও জড়িত। তাঁর দাবি, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের কোনো ভূমিকা থাকবে না। বরং এ প্রক্রিয়া একটি ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হওয়ার কথা।
এদিকে যুদ্ধবিরতির পরও হতাহতের ঘটনা অব্যাহত থাকায় গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে হামলা বন্ধ ও সেনা প্রত্যাহারের দাবি, অন্যদিকে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা—এসব ইস্যুতে মতপার্থক্য এখনো বড় বাধা হয়ে আছে।
ফলে যুদ্ধবিরতির পরও গাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়নি। নতুন করে হামলায় আহত ও নিহতের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘ যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তাও ক্রমেই সামনে আসছে।
মন্তব্য