যশোরের অভয়নগর উপজেলায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক কলেজছাত্রসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা দুটিতে আহত হয়েছেন আরও একজন। মঙ্গলবার রাতে মোটরসাইকেলের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষে কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর বুধবার সকালে যশোর-খুলনা মহাসড়কের মশরহাটী এলাকায় বাসের সঙ্গে ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান ভ্যানচালক ও তাঁর এক যাত্রী। পরপর এসব দুর্ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত কলেজছাত্রের নাম আব্দুল্লাহ আল আপন (২২)। তিনি অভয়নগর উপজেলার বুইকারা গ্রামের ওবাইদুল কাদেরের ছেলে। আপন পায়রাহাট ইউনাইটেড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্যদিকে, বাসের সঙ্গে ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত দুজন হলেন ভ্যানচালক আব্দুল ওহাব (৫৫) এবং ভ্যানের যাত্রী আব্দুস সামাদ বিশ্বাস (৫০)। তাঁরা দুজনই উপজেলার দেয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। আব্দুল ওহাবের বাবার নাম হায়দার আলী এবং আব্দুস সামাদ বিশ্বাসের বাবার নাম আব্দুল মঈন বিশ্বাস।
ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে কলেজছাত্রের মৃত্যু
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে বন্ধু আল-আমিনকে (২৮) সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে বের হন কলেজছাত্র আব্দুল্লাহ আল আপন। রাত ১০টার দিকে তাঁরা যশোর-খুলনা মহাসড়কের অভয়নগর উপজেলার চেঙ্গুটিয়া এলাকার উড়োতলা নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে তাঁদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়।
এতে মোটরসাইকেলচালক আপন ও তাঁর বন্ধু আল-আমিন গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর তাঁদের উদ্ধার করে খুলনার গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোরে আব্দুল্লাহ আল আপনের মৃত্যু হয়। আহত আল-আমিনের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
তরুণ বয়সে একজন শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যু তাঁর পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের জন্য বড় ধরনের শোকের ঘটনা। তবে দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি।
বাস-ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত দুজন
এর আগে বুধবার সকাল ৮টার দিকে অভয়নগর উপজেলার ভৈরব সেতুসংলগ্ন মশরহাটী গ্রামে যশোর-খুলনা মহাসড়কে আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। সোহাগ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে একটি ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ভ্যানচালক আব্দুল ওহাব ও যাত্রী আব্দুস সামাদ বিশ্বাস গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহত দুজনকে উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। তবে বাস ও ভ্যানের সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বাসটির চালকের বিষয়ে কিংবা দুর্ঘটনার সময় ভ্যানটি মহাসড়কের কোন অংশ দিয়ে চলছিল, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
একই মহাসড়কের দুটি পৃথক স্থানে অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনজনের প্রাণহানির ঘটনা সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। বিশেষ করে মহাসড়কে দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে ধীরগতির যানবাহনের সংঘর্ষের ঝুঁকি এবং মোটরসাইকেল চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন
নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম দুর্ঘটনা দুটিতে তিনজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যশোর-খুলনা মহাসড়কে পৃথক দুর্ঘটনায় একজন কলেজছাত্রসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল দুটি পরিদর্শন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
দুর্ঘটনা দুটির কারণ নির্ধারণ, সংশ্লিষ্ট যানবাহনের ভূমিকা যাচাই এবং দায়ীদের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে।
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের সতর্কতা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, মহাসড়কে চলাচলের নিয়ম মেনে চলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বাড়তি নজরদারি জরুরি। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। অভয়নগরের এই দুটি দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, সড়কে সামান্য অসতর্কতার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে।


