ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হামলা চালাতে গিয়ে ভূপাতিত এফ–১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানের দুই ক্রুকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এটি ছিল এক চরম ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক অভিযান, যেখানে দুটি উচ্চ প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান এবং একটি হেলিকপ্টার হারানোর ঝুঁকি নেওয়া হয়েছিল।
ভূপাতিত বিমান ও পাইলটের অবস্থান
ভূপাতিত বিমানটির একজন পাইলট পারস্য উপসাগরের ৩০ মাইল গভীর পার্বত্য অঞ্চলে অবতরণ করেন। তবে দ্বিতীয় বিমানসেনা, একজন কর্নেল, ইজেক্টর সিট থেকে বের হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায়ও বেঁচে যান। তিনি সারভাইভাল, ইভেইশন, রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড এস্কেপ (এসইআরই) কৌশল অনুযায়ী নিরাপদ স্থানে লুকিয়ে থাকেন।
পাইলটদের উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের কয়েকশ সদস্য অংশ নেন, যার মধ্যে নেভি সিলস, ডেল্টা ফোর্স অপারেটর এবং ২৪তম স্পেশাল ট্যাকটিকস স্কোয়াড্রনের প্যারা-রেসকিউম্যানরা ছিলেন।
উদ্ধার অভিযান ও লজিস্টিকস
একটি পরিত্যক্ত এয়ারফিল্ডকে প্রায় ২৪ ঘণ্টার জন্য ‘অস্থায়ী সেনাঘাঁটি’ বানিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। উদ্ধারকারীরা ব্যবহার করেছিলেন সি-১৩০জে পরিবহন বিমান, এমএইচ-৬ লিটল বার্ড হেলিকপ্টার, এবং ড্রোন ও এ-১০ ওয়ারথগ যুদ্ধবিমান।
উদ্ধার অভিযানের প্রধান পর্যায়গুলো:
- সিএসইএল ডিভাইস ব্যবহার: বিমানসেনা তার অবস্থান ও অবস্থা কমান্ডে পাঠান।
- ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা: শত্রুপক্ষের নজর এড়াতে ব্যাটারি সংরক্ষণ ও সংকেত সীমিত রাখা হয়।
- পর্বতমালার আত্মগোপন: পাইলট রাতে প্রায় ৭ হাজার ফুট উচ্চতায় পর্বতের গা দিয়ে নিরাপদ স্থান খুঁজে নেন।
- উদ্ধার দল পৌঁছানো: লিটল বার্ড হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করে নির্ধারিত স্থানে উদ্ধারকারীরা পৌঁছান।
- নিরাপদ প্রত্যাবর্তন: নতুন তিনটি পরিবহন বিমান এনে সকলকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়। অচল দুটি বিমান এবং একটি হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয় শত্রুপক্ষের হাতে পড়া ঠেকাতে।
উদ্ধার অভিযান সংক্ষেপে
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | ইরান, কোহগিলুয়েহ ও বয়ার-আহমদ প্রদেশ |
| সময়কাল | প্রায় ৩৬ ঘণ্টা (ভূপাতন থেকে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন) |
| অংশগ্রহণকারী | নেভি সিলস, ডেল্টা ফোর্স, ২৪তম স্পেশাল ট্যাকটিকস স্কোয়াড্রন |
| ব্যবহারকৃত যান | এফ–১৫ই, সি-১৩০জে, এমএইচ-৬ লিটল বার্ড, ড্রোন, এ-১০ ওয়ারথগ |
| ধ্বংস করা যান | ২টি পরিবহন বিমান, ১টি হেলিকপ্টার |
| চ্যালেঞ্জ | গুরুতর আহত বিমানসেনা, শত্রুপক্ষ নজরদারি, দুর্গম ভূপ্রকৃতি |
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিশেষজ্ঞরা এটিকে সমর ইতিহাসের অন্যতম জটিল এবং সাহসী উদ্ধার অভিযান হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিমানসেনা ও উদ্ধারকারীদের ধৈর্য, প্রশিক্ষণ এবং অত্যাধুনিক সরঞ্জামের সমন্বয় এ অভিযান সফল করেছে।



