খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে চৈত্র ১৪৩২ | ৭ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় অতিসংক্রামক রোগ হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে সাতজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দুই শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন এবং পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে জানা যায়, ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট ১১৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ২০ জন শিশু। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১,২৮২ শিশুর শরীরে হাম-উপসর্গ লক্ষ্য করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮০ শিশুর শরীরে হাম ভাইরাস নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশুরা সকলেই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। এছাড়া হাসপাতাল ভর্তি পরিস্থিতি নিম্নরূপ:
| বিভাগ | হাসপাতালে ভর্তি শিশু | সুস্থ হয়ে ছাড়া শিশু | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ঢাকা | ২৩৮ | ২৮৫ | সর্বোচ্চ নতুন সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার |
| রাজশাহী | ৯১ | ৭৫ | নতুন সংক্রমণ সামান্য নিয়ন্ত্রণে |
| চট্টগ্রাম | ৮৭ | ১১ | আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা চলছে |
| খুলনা | ৬৩ | ৫২ | চিকিৎসা কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে |
| সিলেট | ৪৮ | ৪২ | উপসর্গযুক্ত শিশু চিকিৎসাধীন |
| রংপুর | ৪১ | ৩৫ | সতর্ক পর্যবেক্ষণ অব্যাহত |
| বরিশাল | ৩৭ | ৩০ | টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে |
| ময়মনসিংহ | ৪৯ | ৪১ | হটস্পট এলাকায় পর্যবেক্ষণ তৎপর |
গত ২৪ ঘণ্টায় ৬১৪ জন শিশু হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা ঢাকায় (২৮৫ জন) এবং চট্টগ্রামে (১১ জন)। সুস্থতার হার বাড়লেও নতুন সংক্রমণের তীব্রতা এখনও কমেনি।
হামের প্রকোপ বাড়তে থাকায় দেশের ৩০টি উপজেলা ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় রোববার থেকে এসব এলাকায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। অভিভাবকরা তাদের শিশুদের সঙ্গে জরুরি টিকাকেন্দ্রে ভিড় করছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সময়মতো টিকা প্রদান এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করলে হামের মহামারি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এছাড়া শিশুদের পুষ্টিকর খাবার, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং উপসর্গ দেখা মাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ জরুরি। জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগও চলমান রয়েছে।
সংক্ষেপে, দেশের শিশুদের জন্য হাম একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে অবস্থান করছে। হটস্পট এলাকায় বিশেষ টিকাদান, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। এই মুহূর্তে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা এবং শিশুদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।