খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে ফাল্গুন ১৪৩১ | ১৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
খবরওয়ালা স্পোর্টস ডেস্ক: রাত পোহালেই শুরু হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি টুর্নামেন্ট। অথচ রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে চিন্তার ভাঁজ পরছে টাইগার শিবিরে। মূল পর্বের ম্যাচের পূর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি মাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায় টাইগাররা। সে ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পাশাপাশি নির্বিষ বোলিংয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারলো না অধিনায়ক শান্তর দল। ফলাফল ৭ উইকেটের লজ্জাজনক হার।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুবাইয়ের আইসিসি ক্রিকেট একাডেমি মাঠে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। ব্যাটিং বিপর্যয়ে ৩৮ ওভার ৪ বলে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২০২ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩৪ ওভার ৫ বলে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তান ‘এ’ দল।
ব্যাটাররা বড় পুঁজি এনে দিতে না পারলেও বোলিংয়ে শুরুটা ভালো করেছিল বাংলাদেশ। নতুন বলে আঁটসাঁট বোলিং করেছে টাইগাররা। প্রথম পাওয়ার প্লেতে পাকিস্তান ‘এ’ দলকে ৪২ রানের বেশি করতে দেয়নি তারা। বিপরীতে তুলে নেয় দুই উইকেট।
পাওয়ার প্লে শেষেও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করছিল বাংলাদেশ। বিশেষ করে পেসাররা। তাতে একশ ছোঁয়ার আগেই পাকিস্তান ‘এ’ দলের তিন উইকেট তুলে নিয়েছিল টাইগাররা। ফলে কিছুটা হলেও ম্যাচে ফিরেছিল বাংলাদেশ। তবে সেই ধারবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি বোলাররা। ফলে ৭ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে পাকিস্তান ‘এ’ দল।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। সর্বশেষ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) দুর্দান্ত ব্যাটিং করা তানজিদ হাসান তামিম দুবাইতে এসে ব্যর্থ। বাংলাদেশের হয়ে ইনিংস ওপেন করতে নেমে ৬ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। আলি রেজার বলে বোল্ড হয়েছেন এই ওপেনার।
তিনে নেমে সুবিধা করতে পারেননি শান্ত। তামিমের পথেই হেটেছেন অধিনায়ক। অথচ দ্রুত উইকেট হারানোর পর দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে। উল্টো নিজের উইকেট বিলিয়ে দলকে আরো বিপদে ফেলেছেন এই টপ অর্ডার ব্যাটার। মুবাশ্বির খানকে ফিরতি ক্যাচ দেওয়ার আগে শান্তর ব্যাট থেকে এসেছে ১২ রান।
তামিম-শান্ত ব্যর্থ হলেও আরেক প্রান্তে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন সৌম্য সরকার। সদ্য সমাপ্ত বিপিএল দিয়ে চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরেছেন এই ওপেনার। তবে তার মাঠের পারফরম্যান্সে সেটার কোনো ছাপ ছিল না। সৌম্যের ব্যাটে ভর করেই শুরুর পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট হারিয়ে ৬০ রান তোলে বাংলাদেশ।
ভালো শুরু পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি সৌম্য। কপালের দোষেই সাজঘরে ফিরতে হলো এই টপ অর্ডার ব্যাটারকে! রান আউটে কাটা পড়ার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৩৮ বলে ৩৫ রান।
সৌম্যের বিদায়ের পর দলের হাল ধরেন মেহেদি হাসান মিরাজ। চারে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন তিনি। তাকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন তাওহিদ হৃদয়। তবে ১৯ রানের বেশি করতে পারেননি এই মিডল অর্ডার ব্যাটার।
হৃদয়ের বিদায়ের পরই ধস নামে বাংলাদেশের ইনিংসে। দুর্দান্ত ব্যাটিং করা মিরাজ সাজঘরে ফিরেছেন হাফ সেঞ্চুরি না পাওয়ার হতাশা নিয়ে। তার ব্যাট থেকে এসেছে ৫৩ বলে ৪৪ রান। মিডল অর্ডারে ব্যর্থ মুশফিক-জাকের আলিরা। তাতে দেড়শর আগেই ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
দলের এমন বিপর্যয়ে হাল ধরার চেষ্টা করেন তানজিম সাকিব ও রিশাদ হোসেন। তবে ১৫ বলে ১৪ রানের বেশি করতে পারেননি রিশাদ। আর সাকিবের ব্যাট থেকে এসেছে ২৭ বলে ৩০ রান। তাছাড়া নাসুম আহমেদ করেছেন ১৫ রান। লেজের সারির ব্যাটারদের সম্মিলিত চেষ্টায় কোনোরকমে দুইশ ছুঁয়ে অলআউট হয়েছে টাইগাররা।
খবরওয়ালা/টিএ