ভারতের উত্তরপ্রদেশে এক স্কুলছাত্রীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ ওঠার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রামের একটি ফলের বাগান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শনিবার (২৩ আগস্ট) পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত তরুণ দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। ঘটনার দিন সকালে তাঁর বিরুদ্ধে এক স্কুলছাত্রীকে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর বিষয়টি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে ওই ছাত্রীর পরিবারের কয়েকজন সদস্য অভিযুক্ত তরুণের বাড়িতে যান। তাঁদের অভিযোগ ছিল, তরুণটি ওই ছাত্রীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার পাশাপাশি তাঁকে আক্রমণ করেছিলেন। বিষয়টি জানিয়ে তাঁরা ভারতের জরুরি সহায়তা নম্বর ১১২-এ ফোন করে অভিযোগও করেন।
এর কয়েক ঘণ্টা পর গ্রামের একটি ফলের বাগানে গাছের সঙ্গে তরুণটির ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনও সেখানে উপস্থিত হন। পুলিশের ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
তরুণটির পরিবারের পক্ষ থেকে অবশ্য অভিযোগের ভিন্ন একটি বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। তাঁর বাবা দাবি করেছেন, ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা সকালে তাঁদের বাড়িতে এসে ছেলের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এরপরই তাঁর ছেলেকে হত্যা করে মরদেহ বাগানে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় নিহত তরুণের বাবা সাতজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই তাঁর ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ী। তিনি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় থানার পুলিশ কর্মকর্তা উমেদ সিং বলেন, শুক্রবার সকালে ওই ছাত্রীর পরিবার তরুণটির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তোলে। পরে একই দিনে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনাটির সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি দুই পক্ষের অভিযোগই বিবেচনায় নিয়ে ঘটনার সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই ঘটনায় একদিকে স্কুলছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ, অন্যদিকে অভিযুক্ত তরুণের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার মামলা হওয়ায় তদন্তকারীদের সামনে একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা, তরুণটির মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং মৃত্যুর আগে বা পরে কী ঘটেছিল—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার কথা। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষের অভিযোগকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।


