নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় একদল দুর্বৃত্তের তাণ্ডবে থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। একটি জনবহুল বাজারে মুখোশ পরা অস্ত্রধারীরা প্রবেশ করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এই ঘটনায় এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ মোট তিনজন ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন।
শনিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় এই ভীতিকর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে কেনাকাটা ও আড্ডায় বাজারটি যখন সরগরম ছিল, ঠিক তখনই ১০ থেকে ১২ জনের একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত বাজারের গলি দিয়ে নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর প্রধান সড়কে উঠে আসে। হামলাকারীদের সবার মুখেই কালো কাপড়ের মুখোশ পরা ছিল।
হামলাকারীরা বাজারে ঢুকেই পরপর কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে চারপাশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন। এরপরই দুর্বৃত্তরা চারদিকে ছররা গুলি ছুড়তে শুরু করে।
এই হামলায় আহতরা হলেন শামসুন্নাহার উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রাজিবুজ্জামান (৫৬) এবং দুই দোকান কর্মচারী মো. সাকিব (১৭) ও মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (১৮)। ভুক্তভোগীদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছররা গুলি ও ককটেলের স্প্লিন্টার লেগেছে।
শিক্ষক রাজিবুজ্জামানের শ্যালক মো. সুমন জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর ভগ্নিপতি বাজার থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। দুর্বৃত্তদের ছোড়া ছররা গুলি তাঁর পিঠ, হাত ও বুকে এসে লাগে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শে নিজ বাড়িতে রেখেই সেবাশুশ্রূষা দেওয়া হচ্ছে।
বাজারের প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, দুর্বৃত্তরা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁর দোকানের সামনে দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। সবাই মুখোশ পরা ছিল এবং এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে চালাতে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। পুরো ঘটনাটি কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটে যায়, যার ফলে কেউ প্রতিরোধ গড়ার সুযোগ পাননি।
আহত বাকি দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে গভীর রাতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) রাজিব উদ্দিন চৌধুরী জানান, রাত ১টার দিকে বেগমগঞ্জ থেকে সাকিব ও নাজিম নামের দুই তরুণ শরীরজুড়ে ছররা গুলি নিয়ে হাসপাতালে আসেন। তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে ভর্তি রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানিয়েছেন, ছররা গুলি ও ককটেলের স্প্লিন্টারের আঘাতে তিনজন আহত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি কিংবা কোনো বিশেষ গোষ্ঠী রাজনৈতিক বা সামাজিক অসৎ উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলায় জড়িত মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের শনাক্ত ও গ্রেফেতারে এলাকায় পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।


