খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত করতে সশস্ত্র বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিতকরণে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা : সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে এই দাবি তোলা হয়।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরাপদ করতে সশস্ত্র বাহিনীর নিরপেক্ষ ও সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য। সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নিয়ে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুললে ভোট কারচুপি ও সহিংসতা প্রতিরোধ সম্ভব।
তারা মনে করেন, সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিলে জনগণের আস্থা বাড়বে, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং স্থিতিশীলতাও বজায় থাকবে। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল্লাহ খান সাইফ। অতিথি ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) রোকন উদ্দীন, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, আমজনতা পার্টির সদস্য সচিব ফাতেমা তাসনিম, সবুজ আন্দোলনের সভাপতি বাপ্পী সরকারসহ অ্যাসোসিয়েশনের অন্যান্য নেতারা।
সেমিনার পরিচালনা করেন সহসভাপতি মুশফিকুর রহমান।
মো. রোকন উদ্দিন বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, দলীয় প্রশাসন ভোট কারচুপি ও সহিংসতার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে পূর্ণ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে মাঠে নামানো জরুরি। দেশে বিপুল অবৈধ অস্ত্র ছড়িয়ে রয়েছে, যা উদ্ধার না হলে নির্বাচনের আগে সহিংসতা বাড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন মাঠে থাকার ফলে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ, পরিবারজীবন ও মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই দায়িত্ব সীমিত ও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। সেনাবাহিনী জনগণের আস্থা ও দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। বিদেশি প্রভাব ও ভুয়া প্রচারণা জনগণ-সেনাবাহিনী সম্পর্ক দুর্বল করতে চায়।
রাশেদ খান বলেন, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের ব্যর্থতায় সঠিক নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি হয়নি। ফলে জনগণের সন্দেহ বাড়ছে—নির্বাচন আদৌ হবে কি না তাও অনেকে ভাবছে। তাই সেনাবাহিনীসহ সব বাহিনীকে জনগণের পাশে থাকতে হবে।
লিখিত বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট (অব.) সাইফুল্লাহ খান বলেন, অ্যাসোসিয়েশন আগামী জাতীয় নির্বাচনে স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার ন্যায়সংগত প্রয়োগ এবং জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করে। তাদের মতে, সহিংসতা, পেশিশক্তি ও প্রশাসনিক পক্ষপাতমুক্ত পরিবেশ তৈরি করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত রেখে পেশাদার ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের সুযোগ দিতে হবে।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।
খবরওয়ালা/টিএসএন