বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রণবীর কাপুরের হাতে এখন একাধিক বড় বাজেটের সিনেমা। বিশেষ করে ‘রামায়ণ’ ছবিতে রামের চরিত্রে তার অভিনয় ঘিরে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। পৌরাণিক এই চরিত্রে রণবীরকে পর্দায় দেখতে যেমন মুখিয়ে রয়েছেন ভক্তরা, তেমনি ছবিটির প্রথম পর্বের পর দ্বিতীয় কিস্তি নিয়েও প্রত্যাশা বাড়ছে। এর মধ্যেই নিজের অভিনয়জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন এক তথ্য জানিয়েছেন এই অভিনেতা। তার ভাষ্য, অভিনেতা হিসেবে জীবনের শেষ দশকে প্রবেশ করেছেন বলে মনে করছেন তিনি।
রণবীরের এই মন্তব্য সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি অভিনয় থেকে অবসর নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি? বিষয়টি অবশ্য তেমন নয়। বরং অভিনয়ের পাশাপাশি এবার পরিচালনায় নিজের দক্ষতা যাচাই করতে চান বলিউডের এই তারকা। ক্যামেরার সামনে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার ক্যামেরার পেছনে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সব পরিকল্পনা ঠিক থাকলে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে পরিচালক হিসেবে অভিষেক হতে পারে তার।
পরিচালনার প্রস্তুতি হিসেবে কয়েক মাস আগে থেকেই চিত্রনাট্য লেখার কাজ শুরু করেছেন রণবীর। তবে নতুন এই অভিজ্ঞতা তার কাছে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন বলে মনে হয়েছে। একজন অভিনেতা হিসেবে এত দিন তিনি মূলত নিজের চরিত্র ও অভিনয়ের প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। কিন্তু পরিচালক হিসেবে পুরো সিনেমার গল্প, চরিত্র, দৃশ্যায়ন এবং সামগ্রিক নির্মাণপ্রক্রিয়ার দায়িত্ব নিতে হবে। ফলে চলচ্চিত্র নির্মাণের বিভিন্ন বিভাগের কাজ সম্পর্কে নতুন করে জানার সুযোগ হচ্ছে তার।
রণবীর জানিয়েছেন, পরিচালনার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে সিনেমার পেছনে কাজ করা মানুষদের প্রতি তার শ্রদ্ধা আরও বেড়েছে। একটি চলচ্চিত্র পর্দায় সফলভাবে তুলে ধরতে পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, সংগীত পরিচালক, শিল্পী ও কলাকুশলীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটি নতুনভাবে উপলব্ধি করছেন তিনি। বিশেষ করে সংগীতশিল্পীদের কাজের প্রতিও তার সম্মান আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
নিজের প্রথম সিনেমার গল্প নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও কোন ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চান, সে বিষয়ে ধারণা স্পষ্ট করেছেন রণবীর। তার ইচ্ছা, দর্শকদের জন্য একটি পারিবারিক ড্রামা তৈরি করা। এমন গল্প বলতে চান, যা দর্শকের মনে উষ্ণতা ও আনন্দের অনুভূতি তৈরি করবে। অর্থাৎ, প্রথমবার পরিচালকের আসনে বসেই জটিল বা ভারী বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়ার বদলে পরিবারের আবেগ ও সম্পর্কের গল্প তুলে ধরতে আগ্রহী তিনি।
নিজের কাজের সময়সূচি এবং পরিচালনায় আসার পরিকল্পনা সম্পর্কে রণবীর বলেন, তিনি বছরে প্রায় ১০০ থেকে ১২৫ দিন কাজ করেন। বাকি সময়ে গল্প লেখা ও অন্যান্য সৃজনশীল কাজে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পান। তার কথায়, আগে কখনো এতটা ব্যস্ত বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন না। তবে অভিনেতা হিসেবে এটাই তার শেষ দশক বলে মনে করেন তিনি। ভবিষ্যতে পরিচালনার দিকে আরও বেশি সময় দিতে চান। একই সঙ্গে একটি বিষয় পরিষ্কার করেছেন, নিজের পরিচালিত প্রথম সিনেমায় তিনি নিজে অভিনয় করবেন না। হাতে থাকা বর্তমান প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করেই আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে পরিচালক হিসেবে যাত্রা শুরু করতে চান।
রণবীরের এই সিদ্ধান্ত বলিউডে তার ক্যারিয়ারের নতুন একটি অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতি আগ্রহ অবশ্য তার জন্য একেবারে নতুন নয়। তবে এবার সেই আগ্রহকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। পরিচালনায় তার প্রথম কাজ কেমন হবে, তা নিয়ে এখন থেকেই দর্শকদের কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
এদিকে অভিনয় থেকে এখনই সরে দাঁড়াচ্ছেন না রণবীর। সামনে রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রতীক্ষিত সিনেমা। ‘রামায়ণ: পার্ট ওয়ান’-এর পর তাকে দেখা যাবে সঞ্জয় লীলা বনসালি পরিচালিত ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ ছবিতে। এতে তার সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন আলিয়া ভাট ও ভিকি কৌশল। ছবিটি ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার পরিচালনায় ‘অ্যানিমেল পার্ক’ এবং ‘রামায়ণ: পার্ট টু’ নিয়েও ব্যস্ততা রয়েছে এই অভিনেতার। ফলে আগামী কয়েক বছর অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনার প্রস্তুতিও চলবে তার। দীর্ঘদিনের অভিনয় ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন পরিচয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন রণবীর কাপুর।


