রমনায় বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন, উদ্ধার আরও ৪ ককটেল

রাজধানীর পুরোনো রমনা থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় করা মামলার তদন্তে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও চারটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা উদ্ধার করা ককটেলগুলো নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করেন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভোর ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে রাজধানীর হাতিরঝিল থানার নয়াটোলা চেয়ারম্যান গলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের নাম জাহিদুল ইসলাম মনির (২০)। অপরজন অপ্রাপ্তবয়স্ক এক কিশোর।

পুলিশ জানায়, গত ২৩ অক্টোবর পুরোনো রমনা থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা করা হয়। বিস্ফোরণের পর থেকেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাদের গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়। এসব ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে সন্দেহভাজন দুজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ভোরে হাতিরঝিল থানার ৪৫৩ নম্বর নয়াটোলা চেয়ারম্যান গলির একটি বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই জাহিদুল ইসলাম মনির ও ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বাসা থেকে চারটি ককটেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা বিস্ফোরকগুলো নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার পর সকাল ৮টার দিকে মধুবাগ মাঠে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়। এ সময় রমনা ও হাতিরঝিল থানা-পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরোনো রমনা থানার সামনে বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার দুজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও চারটি ককটেল উদ্ধার হওয়ায় তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার দুজন বর্তমানে রমনা থানা-পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে উদ্ধার করা ককটেলগুলো কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল, সেগুলোর সঙ্গে ২৩ অক্টোবরের বিস্ফোরণের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না এবং এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়। পুলিশ এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্যও খতিয়ে দেখছে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের বিস্ফোরক উদ্ধার ও বিস্ফোরণের ঘটনা জননিরাপত্তার দিক থেকে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ককটেল বা এ ধরনের বিস্ফোরক সংরক্ষণ সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে উদ্ধার করা বিস্ফোরক দ্রুত নিষ্ক্রিয় করার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।