খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ৪:৪ পিএম
আফগানিস্তানের তারকা লেগস্পিনার রশিদ খান আবারও দেখালেন, কেন বিশ্ব ক্রিকেটে তাঁকে অন্যতম সেরা টি-টোয়েন্টি বোলার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইংল্যান্ডের ১০০ বলের ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতা ‘দ্য হান্ড্রেড’-এ ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট শিকারের দিনে শুধু বল হাতে রেকর্ড গড়েননি, ব্যক্তিগত জীবনেও পেয়েছেন এক স্মরণীয় মুহূর্ত। লন্ডনের দ্য ওভালে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ের সাক্ষী ছিল মাত্র তিন মাস বয়সী ছেলে আজলান। ম্যাচ শেষে ছেলেকে কোলে নিয়ে সেই বিশেষ মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আফগান তারকা।
রোববার (২ আগস্ট) ওভালে এমআই লন্ডনের হয়ে মাঠে নামেন রশিদ। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে তাঁর দল নির্ধারিত ১০০ বলে ৬ উইকেটে ১৮৩ রানের শক্তিশালী সংগ্রহ গড়ে। ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন উইল জ্যাকস ও নিকোলাস পুরান। জ্যাকস ৬২ রান করেন, আর পুরানের ব্যাট থেকে আসে ৫৪ রান। তাঁদের কার্যকর ইনিংসের ওপর ভর করে বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় এমআই লন্ডন।
জবাবে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। এমআই লন্ডনের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের সামনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। সেই ধসকে আরও তীব্র করে তোলেন রশিদ খান। মাত্র ২০ বলের স্পেলে ১৭ রান দিয়ে তিনি তুলে নেন পাঁচটি উইকেট। তাঁর ঘূর্ণিতে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ কার্যত ভেঙে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ৫ বল বাকি থাকতেই ১৩৮ রানে অলআউট হয়ে যায় ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস। ফলে ৪৫ রানের বড় জয় পায় এমআই লন্ডন।
রশিদের এই বোলিং পারফরম্যান্স একাধিক কারণে বিশেষ হয়ে উঠেছে। ‘দ্য হান্ড্রেড’-এ এটাই তাঁর প্রথম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। একই সঙ্গে চলতি আসরের প্রথম বোলার হিসেবে তিনি পাঁচ উইকেট নেওয়ার নজির গড়েছেন। প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে সব মিলিয়ে পঞ্চম উইকেট শিকারি হিসেবে নয়, বরং অষ্টম বোলার হিসেবে ফাইফারের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন এই আফগান লেগস্পিনার। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তাঁর হাতে।
‘দ্য হান্ড্রেড’-এ এর আগে রশিদের সেরা বোলিং ছিল ২০২৪ সালে। সে বছর ট্রেন্ট রকেটসের হয়ে লন্ডন স্পিরিটের বিপক্ষে ২৪ রান দিয়ে চার উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। সেই ম্যাচেও তাঁর দল জয় পেয়েছিল এবং ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছিল রশিদের হাতে। এবার অবশ্য এমআই লন্ডনের জার্সিতে নিজের আগের সেরাকে ছাড়িয়ে গেলেন তিনি। ২০ বলে ১৭ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট—এই পারফরম্যান্সই এখন প্রতিযোগিতাটিতে তাঁর ব্যক্তিগত সেরা বোলিং।
তবে রশিদের কাছে ম্যাচটির গুরুত্ব কেবল রেকর্ড বা পুরস্কারে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর তিন মাস বয়সী ছেলে আজলানও এদিন ওভালের গ্যালারিতে উপস্থিত ছিল। বাবার খেলা দেখার জন্য মাঠে উপস্থিত থাকার এটিই ছিল তার প্রথম অভিজ্ঞতা। যদিও এত অল্প বয়সে ক্রিকেটের খুঁটিনাটি বোঝার সুযোগ নেই, তবু বাবার জীবনের অন্যতম সেরা বোলিং পারফরম্যান্সের দিনটিতে ছেলের উপস্থিতি রশিদের কাছে মুহূর্তটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।
ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে পাওয়ার পর ছেলেকে কোলে নিয়ে একটি ছবি প্রকাশ করেন রশিদ। সেই ছবিতে আজলানের জার্সিতে তার নামও লেখা ছিল। ছবির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় আফগানিস্তানের এই তারকা লেখেন, ‘একটি বিশেষ দিন, যা আমি সারাজীবন মনে রাখব। আমার ছোট্ট ছেলের প্রথমবার আমাকে খেলতে দেখা, আর সেই দিনই আমি ম্যাচসেরার পুরস্কার অর্জন করার সৌভাগ্য পেয়েছি।’
এরপর ছেলেকে নিজের ‘সবচেয়ে বড় সমর্থক’, ‘জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ’ এবং ‘সৌভাগ্যের প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করেন রশিদ। তাঁর এই আবেগঘন বার্তা দ্রুতই ভক্তদের নজর কাড়ে। ক্রিকেট মাঠে অসাধারণ সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের এমন একটি মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ায় রশিদের পোস্টে ফুটে ওঠে একজন বিশ্বমানের ক্রিকেটারের পাশাপাশি একজন বাবার আবেগও।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে রশিদ খানের দীর্ঘদিনের সাফল্যের তালিকায় ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর এই পাঁচ উইকেট নতুন সংযোজন। বিশ্বের বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগে নিয়মিত খেলা এই স্পিনার তাঁর বৈচিত্র্যময় লেগস্পিন, গুগলি এবং দ্রুত গতির ডেলিভারির কারণে ব্যাটসম্যানদের জন্য বরাবরই কঠিন প্রতিপক্ষ। ওভালের ম্যাচে সেই দক্ষতারই আরেকটি উজ্জ্বল প্রদর্শন দেখা গেল। আর সেই পারফরম্যান্সের দিন গ্যালারিতে ছেলের উপস্থিতি যোগ করল এক ভিন্ন আবেগের মাত্রা—যা রশিদের নিজের ভাষায়, তিনি সারাজীবন মনে রাখবেন।
মন্তব্য