খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ৪:২ পিএম
রাজশাহীর পবায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে স্থানীয় ওমর ফারুক (৪২) নামে এক জামায়াত নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সাথে দলীয় শৃঙ্খলা ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগে তাঁকে পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
গতকাল রোববার (২ আগস্ট) রাতে উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের জরুরি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওমর ফারুকের দলের প্রাথমিক সদস্যপদ (রুকন) বাতিলসহ তাঁকে দলীয় সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বহিষ্কৃত ওমর ফারুক পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের রুকন এবং পেশায় একজন গ্রাম্য চিকিৎসক। তাঁর বাড়ি বড়গাছি পাকারমাথা গ্রামে। বড়গাছি মোড়ে ‘ফারুক ফার্মেসি’ নামে একটি ওষুধের দোকান পরিচালনার পাশাপাশি নিজ বাড়িতে গ্রামের ছোট ছোট শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা দিতেন তিনি। তাঁর ভাই আবু বকরও একই ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারির দায়িত্বে রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুলাই সকালে ওই শিশুকন্যা ধর্মীয় শিক্ষা নিতে ওমর ফারুকের বাড়িতে যায়। এ সময় অন্য শিশুদের ছুটি দিয়ে দেন ফারুক। পরে তিনি ফাঁকা বাড়িতে শিশুটিকে একা পেয়ে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালান। শিশুটি বাড়ি ফেরার পর তার মুখে ও শরীরে আঘাতের দাগ দেখতে পেয়ে কান্নাকাটির কারণ জানতে চান স্বজনেরা। একপর্যায়ে শিশুটি পরিবার ও উপস্থিত প্রতিবেশীদের সামনে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের কথা প্রকাশ করে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা তাৎক্ষণিকভাবে ওমর ফারুকের বাড়ি ঘেরাও করেন। তবে টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যান ফারুক। ঘটনার পরপরই স্থানীয় জামায়াত নেতারা বিচার পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। ঘটনার ১৯ দিন পার হলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দলগত বা সামাজিকভাবে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত ৩১ জুলাই পবা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ভুক্তভোগীর মা।
মামলা দায়েরের পর গত ১ আগস্ট রাতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পবা থানা অভিযান চালিয়ে ওমর ফারুককে গ্রেফতার করে। রোববার পবা থানা পুলিশ অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাঁকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়।
সাংগঠনিক ব্যবস্থার কথা জানিয়ে বড়গাছি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবদুর রহমান মিলন বলেন, অভিযোগটি পাওয়ার পর আমরা গোপনে তদন্ত পরিচালনা করেছি। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা মেলায় পবা উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের বৈঠকে তাঁর রুকন পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দেশের প্রচলিত আইনেই ওমরের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
মন্তব্য