খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাজধানীর টঙ্গী থেকে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ইতালিতে পাচারের সময় টাওয়ালের মধ্যে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা সাড়ে ৬ কেজি কিটামিন জব্দ করেছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
এই ঘটনায় চাঁদপুর ও ফরিদপুর থেকে মাসুদুর রহমান জিলানী (২৮) ও আরিফুর রহমান খোকা (৪৩) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা কুরিয়ারের মাধ্যমে কিটামিন পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিএনসি সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মহাপরিচালক হাসান মারুফ।
তিনি বলেন, ‘ডিএনসির গোয়েন্দা বিভাগ দীর্ঘদিন যাবত কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে মাদক পাচারের বিষয়ে নজরদারি করে আসছে। এই তৎপরতায় বিভিন্ন সময় বেশ কিছু চালান জব্দ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে, আমাদের কাছে গোপন তথ্য ছিল যে একটি চক্র আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে দেশের বাইরে মাদক পাচার করছে।’
এমন তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর ফেডেক্স কুরিয়ার সার্ভিসে অভিযান চালানো হয়। পরে ফেডেক্সের সহযোগিতায় ঢাকা থেকে ইতালিগামী একটি পার্সেল জব্দ করা হয়।
গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে মহাপরিচালক বলেন, ‘পার্সেলের অবস্থা ও অস্বাভাবিক ওজন দেখে সন্দেহ হলে তা পরীক্ষা করা হয়। খাকি রঙের কার্টুনের ভেতর সাতটি সাদা তোয়ালে পাওয়া যায়। ডিএনসির রাসায়নিক পরীক্ষক সেখানে তোয়ালের রাসায়নিক পরীক্ষা করে দ্রবীভূত অবস্থায় ৬.৪৪ কেজি কিটামিন পাওয়া যায়।’
পরবর্তীতে প্রেরকের ঠিকানা, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থেকে মাসুদুর রহমান জিলানীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরও অনুসন্ধানে জানা যায়, ফরিদপুর জেলার আরিফুর রহমান খোকা এই চালান বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছিল। খোকা এই আন্তর্জাতিক চক্রের অন্যতম হোতা।
পরবর্তীতে ফরিদপুর জেলার সালথা থানার আটঘর বাজার থেকে খোকাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে দুইটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ও একটি বাটন মোবাইল জব্দ করা হয়।
হাসান মারুফ বলেন, ‘কিটামিন মূলত একটি ডিসোসিয়েটিভ অ্যানেস্থেটিক ওষুধ, যা অতীতে চিকিৎসা ক্ষেত্রে অপারেশনের সময় ব্যবহার হত। বর্তমানে এটি ব্যাপকভাবে মাদক হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে, বিশেষ করে পার্টি ড্রাগ হিসেবে। এটি স্বল্পমেয়াদে বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন ও শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করে, দীর্ঘমেয়াদে কিডনি ও মূত্রথলির ক্ষতি, মানসিক সমস্যা এবং আসক্তির দিকে ঠেলে দেয়।’
তিনি কিটামিন পাচারের কৌশল সম্পর্কে বলেন, ‘তোয়ালে বা মোটা কাপড় ব্যবহার করে মাদক লুকানো হয়। কেমিক্যাল ইমপ্রেগনেশনে তোয়ালেতে মাদকের দ্রবণ ভিজিয়ে শুকানো হয়, ফলে মাদক ফাইবারে মিশে যায়। পরে বিশেষ কেমিক্যাল বা ল্যাব প্রসেস ব্যবহার করে মাদক পুনরায় উত্তোলন করা হয়। কোকেন, হেরোইন ও কিটামিন পাচারে এই পদ্ধতি বেশি ব্যবহৃত হয়।’
ডিএনসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের নতুন কৌশল প্রতিরোধে কুরিয়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ডিজি মাদক হাসান মারুফ বলেন, ‘বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মাদক পাচারের রুট কি-না বলা যাবে না। প্রতিটি দেশেই চাহিদার ভিত্তিতে মাদক আসে। ইয়াবার বিস্তার রোধে আমরা নিয়মিত অভিযান করছি। বাবা-মাকেও ভূমিকা রাখতে হবে; সন্তান কার সঙ্গে মেশে তা নজর রাখতে হবে।’
তিনি আরও জানান, ‘ডিএনসির গোয়েন্দা ও অপারেশনে বর্তমানে ১,৬২২ জন কর্মী কাজ করছে। স্বল্প জনবল থাকলেও তথ্য পাওয়া যায় সেখানে অভিযান পরিচালনা করি। প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই চক্রে সহযোগিতা করছে। যদিও গ্রেপ্তাররা প্রবাসী নয়, তবে তাদের পরিচিত প্রবাসীদের সহযোগিতায় চক্রটি গড়ে ওঠে। মাদকটি দেশে সীমিত ব্যবহৃত হয়, মূলত ভারত থেকে আসে, পরে প্রসেস হয়ে বিদেশে যায়।’
খবরওয়ালা/শরিফ