খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
রাজশাহীতে সীমান্তবর্তী এলাকায় তেল পাচার ও মজুত রোধে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের কম দাম পাচারের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতিতে ২৫ মার্চ থেকে রাজশাহীর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপোতে তিনটি বিজিবি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে।
আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী রেলস্টেশন সংলগ্ন শিরোইল কলোনির যমুনা অয়েল ডিপোর সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি তেলে ভর্তুকি দেয়, ফলে দেশের বাজারে এর দাম পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় কম। এই মূল্য ব্যবধানের কারণে সীমান্ত দিয়ে পাচারের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। আমাদের লক্ষ্য হলো তেল পাচার ঠেকানো এবং দেশের অভ্যন্তরে মজুত সুনিশ্চিত করা।”
লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার আরও জানান, রাজশাহীতে সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের ভেতরে বিজিবি সরাসরি নজরদারি করছে। তার বাইরে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। জেলা জুড়ে তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিনটি ডিপো থেকে মোট ৬৪টি পেট্রলপাম্পে তেল সরবরাহ করা হয়, যার মধ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় ১২টি পাম্প অবস্থিত। এসব স্থানে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে।
তেল সরবরাহ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্রান্ত তথ্য নিম্নরূপ:
| ডিপো নাম | সরবরাহ পাম্প সংখ্যা | সীমান্তবর্তী পাম্প সংখ্যা | বিশেষ নজরদারি পদ্ধতি |
|---|---|---|---|
| পদ্মা অয়েল ডিপো | ২০ | ৪ | নিয়মিত টহল ও চেকপোস্ট |
| মেঘনা অয়েল ডিপো | २२ | ৫ | নৌপথে স্পিডবোট সহ টহল |
| যমুনা অয়েল ডিপো | ২২ | ৩ | আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ |
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারে ১৬টি বিওপি থেকে নিয়মিত অভিযান চলছে। এ পর্যন্ত ১৯২টি বিশেষ টহল, ২২৮টি ভ্রাম্যমাণ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া বেলপুকুর ও রাজাবাড়ি চেকপোস্টে প্রায় আড়াই হাজার যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়েছে। নৌপথে স্পিডবোট ব্যবহার করে ৪৮টি টহল সম্পন্ন হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী ব্যাটালিয়নসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিজিবি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার সাংবাদিকদের আরও আশ্বস্ত করেন যে, দেশের অভ্যন্তরে তেলের মজুত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিজিবি সর্বদা সতর্ক এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
মোটদৃষ্টিতে, রাজশাহী অঞ্চলে তেল পাচার রোধে বিজিবি দ্বারা গৃহীত এই কার্যক্রম দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।