খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে চৈত্র ১৪৩২ | ২৯ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত একটি বিচ্ছিন্ন মানব মাথা উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার সকালে সদর উপজেলার দিঘুলিয়া এলাকায় নদীপাড়ের একটি ভুট্টাখেত থেকে এই মাথাটি উদ্ধার করে বানিয়াজুরী তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, এটি তিন দিন আগে সদর উপজেলার কালীগঙ্গা নদীর তীরে উদ্ধার হওয়া ইজিবাইক চালক রফিক মিয়ার (২৭) লাশের।
পিবিআই মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী প্রথম আলোকে জানান, “রফিককে গলাকেটে হত্যা করে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলা হয়েছিল। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া মাথাটি তারই বলে ধারনা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে ফরেনসিক পরীক্ষা অপরিহার্য।”
পিবিআই ও সদর থানার তথ্য অনুযায়ী, রফিক মিয়া ঘিওর উপজেলার রাথুরা গ্রামের বাসিন্দা এবং ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের চালক ছিলেন।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহতের নাম | রফিক মিয়া |
| বয়স | ২৭ বছর |
| পেশা | ইজিবাইক চালক |
| বাসস্থান | রাথুরা, ঘিওর, মানিকগঞ্জ |
| নিখোঁজ হওয়ার তারিখ | মঙ্গলবার সকাল ১০টা |
| লাশ উদ্ধারের স্থান | কালীগঙ্গা নদীর পাড়, পাছবারইল, সদর |
| লাশ উদ্ধার তারিখ | বুধবার বিকেল |
| গ্রেপ্তারকৃতরা | মো. রিপন মিয়া (৩০), আরমান হোসেন (২০), সজীব হোসেন (২৫) |
পিবিআই তদন্তে জানা যায়, নিহত রফিক ও নির্মাণ শ্রমিক মো. রিপন মিয়া বন্ধু ছিলেন। হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গাঁজা সেবনের প্রলোভনে রফিককে তার ইজিবাইকে করে কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে নেওয়া হয়। সেখানে আরমান রফিকের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর রিপন দা দিয়ে গলাকেটে মাথা বিচ্ছিন্ন করেন। এই সময় আরমানের দুই হাত এবং সজীবের দুই পা ধরে রাখার দায়িত্বে ছিলেন। পরে দেহ ও মাথা নদীতে ফেলা হয়, মাথা ভেসে ভুট্টাখেতে পৌঁছায়। লাশের পেট কেটে নদীর তীরে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
বানিয়াজুরী তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক পুলক কুমার দাস মজুমদার বলেন, “ভুট্টাখেতে মাথাটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে মাথাটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
এই ঘটনাটি মানিকগঞ্জে এক সপ্তাহের মধ্যে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের একটি অংশ। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, সম্পৃক্তদের প্রলোভন ও পরিকল্পনার বিশদ অনুসন্ধান এখনো চলমান। ফরেনসিক পরীক্ষার পরই জানা যাবে, নিশ্চিতভাবে উদ্ধার হওয়া মাথাটি রফিক মিয়ার কিনা এবং হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী মামলা দায়ের করা সম্ভব হবে।