খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৩ পিএম
রাজধানীর রায়েরবাগের জোড়াখাম্বা এলাকার একটি আবাসিক মাদ্রাসার বাথরুম থেকে মো. নাঈম শেখ (১২) নামের এক শিশু শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বজনদের অভিযোগ, শিক্ষক বা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের নির্মম বেত্রাঘাত সহ্য করতে না পেরে শিশুটির করুণ মৃত্যু হয়েছে।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে রায়েরবাগ জোড়াখাম্বা এলাকার ‘রওজাতুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসা’র তৃতীয় তলার একটি ওয়াশরুম থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কদমতলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাদ্দাম হোসেন জানান, খবর পেয়ে দুপুর ২টার দিকে তারা ওই মাদ্রাসার তিন তলার ওয়াশরুম থেকে মেঝেতে শোয়ানো অবস্থায় নাঈমের নিথর দেহ উদ্ধার করেন। পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের শরীরে স্পষ্ট বেতের আঘাতের দাগ পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুটি ওয়াশরুমের শাওয়ারের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এই দাবির সত্যতা নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেছে পুলিশ ও নিহতের পরিবার। এসআই সাদ্দাম হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ উন্মোচনে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পেলেই স্পষ্ট হওয়া যাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা।
এদিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের স্ট্রেচারে শায়িত শিশু নাঈমের লাশের পাশে স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নাঈমের মা নাজমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে সন্তানের হাঁটুর নিচসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানের আঘাতের দাগ দেখিয়ে অভিযোগ করেন, হুজুরদের পিটুনিতেই তাঁর নিষ্পাপ ছেলের প্রাণ গেছে। তিনি বলেন, আমার ছেলে আত্মহত্যা করতেই পারে না। ফাঁস দিলে শুধু গলায় দাগ থাকত, সারা শরীরে কীভাবে এত আঘাতের দাগ এল? আমি সন্তান হত্যার বিচার চাই।
নিহতের মামা সুমনও সাংবাদিকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, নাঈম মাদ্রাসাটিতে হেফজ বিভাগে পড়াশোনা করছিল। গতকাল রোববার হুজুররা তাকে বেত দিয়ে খুব মারধর করেছিলেন। ওই শারীরিক নির্যাতন ও আঘাত সহ্য করতে না পেরেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী এলাকার বাসিন্দা বাবু শেখের দুই ছেলের মধ্যে বড় ছিল নাঈম। পরিবারটি রাজধানীর কদমতলী এলাকায় বসবাস করে এবং বাবু শেখ পেশায় একজন দিনমজুর রিকশাচালক। কষ্টার্জিত উপার্জনে ছেলেকে হাফেজ বানানোর স্বপ্ন নিয়ে মাদ্রাসায় দিয়েছিলেন তিনি। খবর পেয়ে কদমতলী থানা পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে মাদ্রাসার শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
মন্তব্য