সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত স্বর্ণের গয়না ও নগদ টাকার ছবি-ভিডিও প্রকাশ করতেন ভারতের এক ইনফ্লুয়েন্সার। কখনো নিজের পরা গয়না, আবার কখনো টাকার বান্ডিল নিয়ে তৈরি করা রিলসও প্রকাশ করেছেন তিনি। তদন্তকারীদের ধারণা, এসব প্রকাশ্য পোস্টই হয়তো শেষ পর্যন্ত চোরদের কাছে তার সম্পদ ও চলাফেরার তথ্য পৌঁছে দিতে ভূমিকা রেখেছে। পরিবারের সদস্যরা শপিংয়ে বের হওয়ার সুযোগে তার বাড়ি থেকে প্রায় ১ কোটি রুপির গয়না ও নগদ টাকা চুরি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী জেলার নাগেরকোইলের কাছে থামাথুকোনম এলাকায়। সেখানে স্বামী বিনোদ কুমার ও এক সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন ইনফ্লুয়েন্সার মধুমিতা।
পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা শপিং করতে বাড়ি থেকে বের হন। কিছু সময় পর রাতে তারা ফিরে এসে দেখতে পান, শোয়ার ঘরের আলমারি ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। আলমারিতে রাখা মূল্যবান গয়না ও নগদ টাকা তখন আর ছিল না।
অভিযোগে বলা হয়েছে, চুরি যাওয়া সম্পদের মধ্যে প্রায় ৯৬০ গ্রাম স্বর্ণের গয়না, হিরার অলঙ্কার এবং ৫০ হাজার রুপি নগদ ছিল। সব মিলিয়ে এসব সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি রুপি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ শুধু বাড়ির আশপাশের পরিস্থিতি বা সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে না, মধুমিতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রমও পর্যালোচনা করছে। তদন্তকারীদের নজরে এসেছে তার একাধিক রিলস ও পোস্ট।
এসব পোস্টের কয়েকটিতে মধুমিতাকে বাড়িতে থাকা স্বর্ণের গয়না পরে থাকতে দেখা গেছে। অন্য একটি ভিডিওতে বিছানার ওপর সাজানো টাকার বান্ডিল দেখা যায়। এমনকি সন্তানের ওপর ছড়িয়ে রাখা টাকার নোট নিয়েও একটি ভিডিও তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলে রয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া তিনি কোথা থেকে গয়না কিনতেন, সেই সংক্রান্ত তথ্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করতেন বলে পুলিশের নজরে এসেছে। ফলে প্রকাশ্যে দেওয়া এসব তথ্য চুরির ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে সম্পর্কিত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, পরিবারের সদস্যরা কখন বাড়িতে থাকেন এবং কখন বাইরে যান—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন আপডেট থেকে সেই বিষয়ে কোনো ধারণা পেয়েছিল কি না চোরেরা, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মধুমিতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্ট, ভিডিও এবং পরিবারের গতিবিধি সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রকাশ্যে নিজের সম্পদ ও ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, এই ঘটনাটি সেই বিষয়টিকেও সামনে এনেছে।


