নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি স্টিল কারখানায় চুল্লি বিস্ফোরণের ঘটনায় চার শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। বুধবার রাত ৮টার দিকে তারাব পৌরসভার বরপা আড়িয়াবো এলাকার প্রিমিয়ার স্টিল রি-রোলিং মিলস (পিএসআরএম) কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধ শ্রমিকদের উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধ শ্রমিকরা হলেন—সজিব সরকার (৩২), রুবেল আহমেদ (২৮), নাজমুল (৩৩) ও আবির (১৯)। তাদের মধ্যে সজিবের শরীরের ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। রুবেলের ২৫ শতাংশ, নাজমুলের ২০ শতাংশ এবং আবিরের শরীরের ১০ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, চারজনের মধ্যে সজিবের দগ্ধের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। তার শরীরের বড় একটি অংশ পুড়ে যাওয়ায় চিকিৎসকেরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার সময় রোলিং মিলের চুল্লিতে কাজ চলছিল। দুর্ঘটনার পর মুহূর্তেই সেখানে আগুনের ফুলকি ছড়িয়ে পড়ে। এতে কাছাকাছি থাকা শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের সহকর্মী নাবিল তালুকদার জানান, রাত ৮টার দিকে কাজ শেষে তিনি কারখানা থেকে বের হয়ে বাসায় ফিরছিলেন। কারখানা থেকে কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ মানুষের চিৎকার শুনে তিনি পেছনে ফিরে তাকান। তখন রোলিং মিলের চুল্লি বিস্ফোরিত হয়ে চারদিকে আগুনের ফুলকি ছড়িয়ে পড়তে দেখেন।
নাবিল বলেন, পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ফিরে যান। সেখানে গিয়ে কয়েকজন শ্রমিককে আগুনে দগ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে দগ্ধ চারজনকে চিকিৎসার জন্য জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুল্লিতে লিকেজের কারণে গলিত লোহা নিচে পড়ে গিয়ে আগুনের সূত্রপাত এবং বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নাবিলের দাবি, চারজনের বাইরে আরও কয়েকজন শ্রমিক এ ঘটনায় দগ্ধ হয়ে থাকতে পারেন। তবে তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্টিল কারখানায় উচ্চ তাপমাত্রায় গলিত ধাতু নিয়ে কাজ করতে হয়। এ ধরনের কাজে চুল্লির তাপমাত্রা, যন্ত্রপাতির অবস্থা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে কারখানার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা ও তাদের শারীরিক অবস্থার ওপরও নজর রাখা হচ্ছে।


