খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই জুলাই ২০২৬, ২:৭ পিএম
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক সাধারণ মানুষের জমি দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের বড় আমদিয়া মৌজার ১৭ শতাংশ জমি নিয়ে এই তুলকালাম কাণ্ড ঘটে। অভিযুক্ত ওই নেতার নাম সুলতান মাহমুদ, যিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কাজিরটেক এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবৈধ দেয়াল নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, বড় আমদিয়া মৌজার বিতর্কিত ওই ১৭ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে আসছিলেন আলী নেওয়াজ নামের এক ব্যক্তি। তবে হেলাল নামের অন্য এক ব্যক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে ছাত্রদল নেতা সুলতান মাহমুদ বেশ কিছু বহিরাগত লোকজন নিয়ে আচমকা ওই জমিতে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করেন। নিজেদের পৈতৃক ও বৈধ জমির দখল হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় আলী নেওয়াজের পক্ষের লোকজন এতে তীব্র বাধা দেন। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি শুরু হলে পুরো কাজিরটেক এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দিকবিদিক ছুটতে শুরু করলে খবর দেওয়া হয় পুলিশে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে সুলতান মাহমুদ ও তাঁর লোকদের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সুলতান মাহমুদ পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (গ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে দুই পক্ষকেই মাঠ থেকে সরিয়ে দেন এবং সব ধরনের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার চূড়ান্ত নির্দেশ দেন।
অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা সুলতান মাহমুদ। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘হেলাল নামের ওই ব্যক্তি সম্পর্কে আমার চাচা হন। তিনি প্রায় ১০ বছর আগে এই ১৭ শতাংশ জমি বৈধভাবে কিনেছিলেন, কিন্তু নানা জটিলতায় এত বছর ধরে দখল নিতে পারেননি। তিনি জমিটি উদ্ধারের জন্য আমার কাছে সাংগঠনিক ও ব্যক্তিগত সহযোগিতা চেয়েছিলেন। আমি কেবল আত্মীয় হিসেবে ওনার পাশে দাঁড়িয়েছি এবং লোকজন নিয়ে ওনাকে জমিটি বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখানে কোনো জোরজুলুম বা অবৈধ দখলের ঘটনা ঘটেনি।’ অন্য প্রান্ত থেকে জমির দাবিদার হেলাল মুঠোফোনে জানান, তিনি তাঁর নিজের কেনা জমিতে বাউন্ডারি দেয়াল দেওয়ার জন্যই মূলত সুলতান মাহমুদের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের সহযোগিতা নিয়েছেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (গ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ ও উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নেয়। আমাদের হস্তক্ষেপে এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যেন না হয়, সেজন্য উভয় পক্ষকে আপাতত ওই জমিতে কোনো ধরনের কাজ না করার জন্য কঠোরভাবে বলা হয়েছে। উভয় পক্ষের বৈধ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চলছে।’
মন্তব্য