খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই জুলাই ২০২৬, ২:০ পিএম
বাগেরহাটে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রেরই ভেতরে ও বাইরে দুই পরীক্ষার্থীর ওপর দফায় দফায় নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার দুপুরে বাগেরহাট সরকারি মহিলা কলেজের প্রধান ফটকের ভেতরে এবং ফটকের বাইরে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় কেন্দ্রে দায়িত্বরত দুই পুলিশ সদস্য ওই শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। হামলাকারীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করেই তাঁদের সামনে দুই শিক্ষার্থীকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। দীর্ঘক্ষণ পর পুলিশ সদস্যরা কোনোমতে হামলাকারীদের নিবৃত্ত করতে সক্ষম হন।
হামলার শিকার দুই শিক্ষার্থী হলেন শাহরিয়ার খান ও রাফসান আমিন। তাঁরা দুজনেই বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজের বাণিজ্য বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সরকারি পিসি কলেজ ছাত্রদল নেতা সামিরসহ তাঁর বেশ কয়েকজন সহযোগী হঠাৎ করে তাঁদের ওপর এই হামলা চালান। হামলার শিকার শাহরিয়ার জানান, ফেসবুক মেসেঞ্জারে সাধারণ একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে তাঁদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহরিয়ারের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পক্ষে বিভিন্ন পোস্ট দেওয়া নিয়ে আগে থেকেই এলাকায় ক্ষোভ ছিল।
এদিকে, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রের মাত্র ২০০ গজের ভেতরে প্রবেশপত্র হাতে থাকা পোশাক পরিহিত পরীক্ষার্থীদের ওপর এভাবে প্রকাশ্যে হামলার ঘটনায় সাধারণ অভিভাবক ও স্থানীয়দের মনে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করে মহিবুন নাহার নামে এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার ছেলেও এই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে। এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে দুই শিক্ষার্থীর ওপর হামলা হলো, অথচ আশপাশের এত মানুষ দেখেও কেউ এগিয়ে এলো না। কাল যদি আমার সন্তানের ওপর এমন হামলা হয়, তবে তার দায় কে নেবে?”
হামলার বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সামির নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে দাবি করেন, শাহরিয়ার খান নামের ওই শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে শেখ হাসিনার পক্ষে ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে আসছিলেন। এই রাজনৈতিক ক্ষোভ থেকেই মূলত তাঁর সহপাঠীরা ক্ষুব্ধ হয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে। এই ঘটনার সাথে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন বলেও তিনি দাবি করেন।
বাগেরহাট সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ড. এজেডএম রুহুল কাদির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আমি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি।” তিনি জানান, হামলার শিকার ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষই সরকারি পিসি কলেজের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে তাঁর প্রবেশপত্রের একটি অনুলিপি ইতিমধ্যে পিসি কলেজের অধ্যক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রের বাইরে ঘটে যাওয়া হামলার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে, যা পিসি কলেজের অধ্যক্ষকে হস্তান্তর করা হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রের শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী এই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে বলে জানান অধ্যক্ষ।
মন্তব্য