খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ মে ২০২৫
রাজধানীর ডেমরার সেবা হাসপাতাল অ্যান্ড ল্যাবে গত রোববার রাতে একটি জটিল গর্ভাবস্থার রোগীর চিকিৎসার সময় অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে পুলিশ হত্যা মামলার আসামি চিকিৎসক ডা. ইমরান হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) নিশ্চিত করেছে। গ্রেপ্তারের সময় স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়, তবে শেষ পর্যন্ত ডা. ইমরানকে গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ডা. ইমরান হোসেন একজন অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ এবং তিনি মাতুয়াইল মাতৃসদন ইনস্টিটিউটে কর্মরত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ডা. ইমরান। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে একটি গত ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় রুজুকৃত গণহত্যা মামলাও রয়েছে। তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং মাতুয়াইল মাতৃসদন ইনস্টিটিউটের আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ডিবির সাইবার ক্রাইম ইউনিট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
এডিসি বকুল হোসেন জানান, প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাদের নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায় যে, ডা. ইমরান ডেমরার সেবা হাসপাতালে অবস্থান করছেন।
তবে ডা. ইমরান এখনও মহানগর সাইবার ক্রাইম ইউনিটের হেফাজতে রয়েছে বলে জানান ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘গোয়েন্দা পুলিশ ডেমরা থানায় অবগত করলে আমরা তাদের সহযোগিতা করি এবং আসামিকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করি।’
সেবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিযানের সময় ডা. ইমরান তিনি সিজারিয়ান স্কার ইক্টোপিক প্রেগনেন্সি রোগীর অপারেশনের জন্য অ্যানেস্থেসিয়া দিতে অনকলে ছিলেন। রোগীকে ইনজেকশন দেওয়ার পর প্রায় দেড় ঘণ্টা অচেতন অবস্থায় রাখা হলে ঠিক সেই মুহূর্তে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সরাসির অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে পড়ে। এ সময় হাসপাতালে কর্মরত ব্যক্তিদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে পুলিশকে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে ডিবি পুলিশের দলের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরে ডেমরা থানা পুলিশের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সিজারিয়ান স্কার এক্টোপিক প্রেগনেন্সি (Cesarean Scar Ectopic Pregnancy-CSEP) একটি বিরল ও গুরুতর গর্ভাবস্থার জটিলতা। এক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের কারণে ভ্রূণ জরায়ুর দেয়ালে তৈরি হওয়া দাগে প্রতিস্থাপিত হয়। এটি সাধারণত জরায়ুর নিচের অংশে ঘটে এবং এটি ‘নন-টিউবাল এক্টোপিক প্রেগনেন্সি’ হিসেবে বিবেচিত হয়। জটিল এই পরিস্থিতিতে রোগীর প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে।
জানতে চাইলে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘ডা. ইমরান আমাদের নিয়মিত ডাক্তার নন। তিনি অন কলে এসে বিশেষ প্রয়োজনের সময় অ্যানেস্থেসিয়ার কাজ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা মামলার তথ্য আমাদের জানা ছিল না। এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়ভার বহন করবে না।’
খবরওয়ালা/এন