কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ মে ২০২৫
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ কাপুরিয়া হাটে আদালতের আদেশ অমান্য করে জোরপূর্বক টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে হাট ইজারাদার জোমারত আলীর বিরুদ্ধে। আদালত মালিকানাধীন সম্পত্তিতে টোল আদায় না করার নির্দেশনা দিলেও তা উপেক্ষা করে তিনি এখনো টোল আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
জানা যায়, দেশের অন্যতম বৃহৎ ও প্রাচীন এই কাপড়ের হাটটি ১৪৩২ বাংলা সনের ১লা বৈশাখ থেকে ৩০শে চৈত্র পর্যন্ত ৬৫ লক্ষ ২৮ হাজার ৩৩১ টাকায় এক বছরের জন্য ইজারা নেন মিরপুর বাসস্ট্যান্ড পাড়া এলাকার মো. জবেদ আলীর ছেলে জোমারত আলী। ইজারা পাওয়ার পর থেকেই তিনি হাট সংলগ্ন পোড়াদহ বাজার এলাকার কিছু মালিকানাধীন সম্পত্তিতেও টোল আদায় শুরু করেন।
এই ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম কুষ্টিয়া জেলা জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের বিচারক সুমিয়া খানম গত ২৪ মে (শনিবার) একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে হাটের মালিকানাধীন অংশ ব্যতীত অন্যান্য স্থানে টোল আদায় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। আদালত ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখার আদেশ দিলেও অভিযোগ রয়েছে যে, ইজারাদার তা উপেক্ষা করে টোল আদায় অব্যাহত রেখেছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. মোসলেম উদ্দিন জানান, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, ইজারাদার মালিকানাধীন সম্পত্তিতে টোল আদায় করতে পারবেন না। এই নির্দেশনার পরেও তিনি আদায় চালিয়ে যাওয়ায় তা আদালত অবমাননার শামিল।
স্থানীয় দোকান মালিক ও মামলার বাদী হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা ২২ মে আদালতে আপিল করি এবং ২৪ তারিখে স্থিতাবস্থা আদেশ পাওয়া সত্ত্বেও ইজারাদার জোরপূর্বক টোল আদায় চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি, কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাইনি।’
অন্যদিকে অভিযুক্ত ইজারাদার জোমারত আলী তার বক্তব্যে জানান, ‘আমাদের বিরুদ্ধে আগের একটি মামলায় প্রথম জজ আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছিল। আপিলে জেলা জজ আদালত ‘স্থিতাবস্থা বজায় রাখার’ আদেশ দিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। আমি উকিলদের সাথে পরামর্শ করেই বিষয়টি জেনেছি।’
তবে এ বিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী জোমারতের বক্তব্যকে ‘ভুল ব্যাখ্যা’ বলে আখ্যা দেন এবং আদালতের আদেশ সঠিকভাবে মানার আহ্বান জানান।
এদিকে, মিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল ইসলাম জানান, ‘আমি বর্তমানে ঢাকায় ট্রেনিংয়ে রয়েছি। আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ এখনো হাতে পাইনি। আদেশ হাতে পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন যাতে আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয় এবং হয়রানি বন্ধ হয়।
খবরওয়ালা/আরডি