ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ছাড়াই ডেনমার্কের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয় তুলে নিয়ে গ্রুপ পর্বে নিজেদের নিখুঁত ছন্দ ধরে রেখেছে পর্তুগাল। ম্যাচজুড়ে দুই দলের আক্রমণাত্মক ফুটবলে উত্তেজনা ছিল শেষ পর্যন্ত। পর্তুগালের রক্ষণে কিছুটা ফাঁক দেখা গেলেও আক্রমণভাগের কার্যকর পারফরম্যান্স শেষ পর্যন্ত তাদের জয় এনে দেয়। গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন গঞ্জালো রামোস।
রোনালদোর অনুপস্থিতির কারণে ম্যাচ শুরুর আগেই পর্তুগালকে ঘিরে ছিল বাড়তি আগ্রহ। আগের ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে তাকে না খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছিল। এরপর ডেনমার্কের বিপক্ষেও রোনালদো শুরুর একাদশে থাকছেন না—এমন খবর সামনে আসে। ম্যাচ শুরুর ঠিক এক দিন আগে পর্তুগালের ট্রেনিং ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ায় তার অনুপস্থিতি আরও আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে মাঠের খেলায় সেই বিষয়টি ছাপ ফেলতে দেয়নি পর্তুগাল। শুরু থেকেই তারা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে এবং ১২তম মিনিটেই এগিয়ে যায়। জোয়াও কানসেলোর গোলে স্বস্তি ফিরে আসে পর্তুগিজ শিবিরে। কিন্তু ডেনমার্ক দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। ২৩তম মিনিটে মিককেল ডেমসগার্ড গোল করে ম্যাচের স্কোর ১-১ করেন।
সমতা ফেরার পর ডেনমার্কের স্বস্তি অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র দুই মিনিট পরই পর্তুগাল আবার এগিয়ে যায়। ব্রুনো ফার্নান্দেসের পাস থেকে গঞ্জালো রামোস বল জালে পাঠান। তার গোলেই প্রথমার্ধে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে পর্তুগাল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও ম্যাচে ফিরে আসে ডেনমার্ক। হোইলুন্ড গোল করে স্কোরলাইন ২-২ করেন। এতে ম্যাচের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। দুই দলই জয়সূচক গোলের সন্ধানে আক্রমণ বাড়াতে থাকে। পর্তুগালের রক্ষণভাগকেও কয়েকবার চাপের মুখে পড়তে হয়।
শেষ পর্যন্ত ৬৭তম মিনিটে পর্তুগাল সেই গুরুত্বপূর্ণ গোলটি পেয়ে যায়। ভিতিনিয়ার হেডার থেকে আসা গোলে আবারও এগিয়ে যায় তারা। ৩-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ডেনমার্ক সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও পর্তুগালের প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার কয়েক মিনিট আগে জয় নিশ্চিত করে পর্তুগাল। ৮৭তম মিনিটে জোয়াও ফেলিক্স দলের চতুর্থ গোল করেন। এরপর ডেনমার্ক আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায়নি। শেষ পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধানেই মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল।
এই জয়ে গ্রুপ পর্বে টানা তৃতীয় জয় পেল হোর্হে জেসুসের দল। তিন ম্যাচ থেকে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে তারা নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। একই সঙ্গে রোনালদোকে ছাড়াও দলের আক্রমণভাগ যে একাধিক খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর করতে পারে, ম্যাচটি তার একটি স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকল।
পর্তুগালের চার গোল এসেছে চার ভিন্ন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে। কানসেলো ম্যাচের শুরুতে দলকে এগিয়ে দেন, রামোস গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করেন, ভিতিনিয়া দ্বিতীয়ার্ধে আবারও লিড এনে দেন এবং ফেলিক্স শেষ দিকে জয় নিশ্চিত করেন। এর সঙ্গে ব্রুনো ফার্নান্দেসের সৃজনশীল ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
তবে চার গোলের জয় পেলেও পর্তুগালের রক্ষণ নিয়ে কিছুটা প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। দুইবার লিড নেওয়ার পরও তারা ডেনমার্ককে ম্যাচে ফিরতে দিয়েছে। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সমতা ফেরার পর কিছু সময় পর্তুগালের ওপর চাপ তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে এই জায়গায় আরও সংগঠিত ফুটবল প্রয়োজন হতে পারে।
অন্যদিকে ডেনমার্কের জন্য ম্যাচটি ছিল লড়াই করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগে ভরা। দুইবার পিছিয়ে পড়েও তারা সমতায় ফিরেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পর্তুগালের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা তাদের প্রতিরোধের চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে।
রোনালদোকে ঘিরে মাঠের বাইরের আলোচনা যতটা ছিল, মাঠের ভেতরে পর্তুগালের পারফরম্যান্স তার চেয়ে কম আলোচিত হওয়ার মতো নয়। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একাধিক খেলোয়াড় দায়িত্ব নেওয়ায় দলটি জয় পেয়েছে। গ্রুপ পর্বে টানা তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট অর্জন করে এখন পর্তুগাল পরবর্তী ম্যাচের দিকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাকাতে পারবে। রোনালদোর জাতীয় দলে পরবর্তী উপস্থিতি এবং তার অনুপস্থিতিকে ঘিরে পরিস্থিতিও সামনে আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।


