রোহিঙ্গা জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বাড়ল প্রায় ৪০০ কোটি টাকা

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় আজ মোট ২৪ হাজার ২৪৭ কোটি টাকার ১৬টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মাল্টিসেক্টর প্রকল্প, যার মেয়াদ ও বরাদ্দ দুটোই বাড়ানো হয়েছে।

একনেক সভা আজ রবিবার (২০ এপ্রিল)  অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

রোহিঙ্গা জীবনমান উন্নয়নের মাল্টিসেক্টর প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প ব্যয় ৩৯৬ কোটি টাকা বেড়ে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। অতিরিক্ত অর্থের পুরোটা জোগান দেবে বিশ্বব্যাংক।

ড. মাহমুদ বলেন, “কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতেই প্রকল্পের মেয়াদ ও বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।” তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অনুদান পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, বিশেষ করে জাতিসংঘের আওতাধীন রোহিঙ্গা প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রভাব এ ক্ষেত্রে নেতিবাচক হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আজকের সভায় ‘স্ট্রেনদেনিং সোশ্যাল প্রোটেকশন ফর ইম্প্রুভড রেজিলিয়েন্স, ইনক্লুশন অ্যান্ড টার্গেটিং’ প্রকল্পটি পাস হয়েছে, যার ব্যয় ৯০৪ কোটি টাকা।

ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “সরকারি ভাতা যাঁরা পান, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ প্রকৃত সুবিধাভোগী নন। রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের মাধ্যমে অনেকেই ভুয়া তালিকায় ঢুকে পড়েছেন। এদের বাদ দিলে প্রকৃত উপকারভোগীরা দ্বিগুণ ভাতা পেতে পারতেন।”

এ প্রকল্পে বিদেশি পরামর্শক নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, “উন্নয়নশীল দেশগুলো সহজ শর্তে ঋণ নিতে চাইলে পরামর্শকদের শর্ত মেনে চলতে হয়। এটি একটি বড় সমস্যা।”

আজকের সভায় পাস হওয়া সবচেয়ে বড় প্রকল্প হলো ‘বে টার্মিনাল মেরিন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট’। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এটি ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করবে।

এই প্রকল্পে কর্ণফুলী নদীর মুখে সাগরের ব্রেক ওয়াটার, নেভিগেশন চ্যানেল, রেল ও সড়ক অবকাঠামোসহ যাবতীয় সেবা উন্নয়ন করা হবে। চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় মোট চারটি বে টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে, যার মধ্যে দুটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে হবে।

আজকের একনেক সভায় সব মিলিয়ে ২৪ হাজার ২৪৭ কোটি টাকার ১৬টি প্রকল্প পাস করা হয়। এর মধ্যে ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে ১৬ হাজার ৭২০ কোটি টাকা। সরকার দেবে ৩ হাজার ১ কোটি টাকা। বাকি অর্থ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা দেবে।

 

 

খবরওয়ালা/এমবি

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।