খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
লক্ষ্মীপুরে এক শিশু শিক্ষার্থীকে (১২) বলাৎকারের অভিযোগে পপুলার আইডিয়াল হিফজ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল আহাদকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৯ জুলাই) রাতে সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন ওই মাদ্রাসা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়। এই ঘটনায় সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে মাদ্রাসার ভেতরেই এই পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয় হিফজ বিভাগের ওই শিক্ষার্থী। ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার দুপুরে আসামিকে লক্ষ্মীপুর আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ভয়াবহ এই ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার জানায়, শনিবার রাত আনুমানিক ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে মাদ্রাসার প্রধান মাওলানা আব্দুল আহাদ হিফজ বিভাগের ওই ১২ বছর বয়সী ছাত্রকে কৌশলে নিজের শয়নকক্ষে ডেকে নেন। সেখানে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে শিশুটির ওপর বলপ্রয়োগ করে বলাৎকার করা হয়। ঘটনার পর অবুঝ শিশুটি চরম ভয় ও আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে পড়ে। লোকলজ্জা ও শিক্ষকের হুমকির মুখে রাতে সে কাউকে কিছু বলতে পারেনি।
পরদিন রোববার দুপুরে ওই শিক্ষার্থী মাদ্রাসা থেকে কৌশলে পালিয়ে নিজ বাড়িতে চলে যায়। বাড়ি ফিরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সে তার মাকে পুরো ঘটনা খুলে বলে। শিক্ষকের এমন পৈশাচিক আচরণের কথা জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা হতবাক হয়ে যান। জানাজানির একপর্যায়ে এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা রোববার রাতে ওই মাদ্রাসায় চড়াও হন। তারা অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদকে মাদ্রাসার একটি কক্ষে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে নিজেদের হেফাজতে নেয়। একই সাথে পুলিশ ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং তার জবানবন্দি রেকর্ড করে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, এই ঘটনার পর থেকে ১২ বছর বয়সী ওই শিশুটি মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। সে তীব্র আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে এবং কোনোভাবেই আর ওই মাদ্রাসায় পড়তে যেতে চাইছে না। অবুঝ এই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত পরিবারটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ওই ছাত্রকে বলাৎকারের ঘটনার সত্যতা মিলেছে।
ওসি আরও বলেন, সোমবার দুপুরে অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো বিষয় কিংবা আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে আদালতে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।