খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
লক্ষ্মীপুরে এক প্রবাসী গৃহবধূকে জোরপূর্বক ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে আল আমিন ছৈয়াল নামের এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (৩১ মে) বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু হানিফ গণমাধ্যমকে মামলার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত রবিবার (৩০ মে) রাতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে এই মামলাটি রুজু করেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার একমাত্র অভিযুক্ত আল-আমিন ছৈয়াল লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের উত্তর চররমনী গ্রামের বাসিন্দা আবু ছৈয়ালের ছেলে। একই সাথে তিনি স্থানীয় চররমনী মোহন ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় নেতা হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন।
মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী হিসেবে বিদেশে অবস্থান করছেন। স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত আল-আমিন ছৈয়াল বিভিন্ন সময়ে ওই গৃহবধূকে অনৈতিক ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তার এই অনৈতিক প্রস্তাবে গৃহবধূ রাজি না হওয়ায় আল-আমিন প্রায়ই গভীর রাতে গৃহবধূর বসতবাড়ির টিনের চালে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে তাকে উত্ত্যক্ত ও আতঙ্কিত করত। এই ধরনের অবিরত হয়রানি সহ্য করতে না পেরে মানসিক শান্তিতে থাকার উদ্দেশ্যে প্রায় ৯ মাস আগে ওই গৃহবধূ শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে তার বাবার বাড়িতে চলে যান। পরবর্তীতে গত পবিত্র রমজান মাসে তিনি পুনরায় তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসেন। কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে ফেরার পর অভিযুক্ত আল-আমিন আবারও তাকে নতুন করে অশালীন ও কুপ্রস্তাব দিতে শুরু করে, যাতে যথারীতি গৃহবধূ সাড়া দেননি।
মামলার এজাহারে গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দিবাগত রাতের নির্মম ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলা হয়েছে, সেদিন রাতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য ঘর থেকে বাইরে বের হন। আগে থেকেই ওই বাড়ির আঙিনায় ও অন্ধকারে ওঁৎ পেতে থাকা আল-আমিন হঠাৎ করে পেছন থেকে এসে গৃহবধূর মুখ শক্ত করে চেপে ধরেন। এরপর জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে তাকে বাড়ির পাশের একটি নির্জন সুপারি বাগানে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে নিয়ে গৃহবধূর গলায় ধারালো ছুরি ঠেকিয়ে তাকে প্রাণনাশের ভয় দেখানো হয় এবং একপর্যায়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের পর এই পাশবিক ঘটনাটি যদি কোনোভাবে জানাজানি হয়, কেউ জানতে পারে অথবা এই বিষয়ে থানায় কোনো আইনি পদক্ষেপ বা মামলা দায়ের করা হয়, তবে ওই গৃহবধূর একমাত্র সন্তানকে বা ছেলেকে হত্যা করা হবে বলে তীব্র হুমকি দেয় অভিযুক্ত আল-আমিন।
এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী গৃহবধূর ভাই গণমাধ্যমকে জানান, “আমরা এই জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে যে অপরাধ করা হয়েছে, তার জন্য অপরাধী যেন দেশের প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি পায়, প্রশাসন যেন সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করে।”
উক্ত ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবদল নেতা আল-আমিন ছৈয়ালের বক্তব্য গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, যার ফলে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবু হানিফ জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং এর যথাযথ তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আল-আমিন পলাতক রয়েছে এবং এই কারণে এখনও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে অত্যন্ত তৎপর রয়েছে এবং তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারের জন্য সম্ভাব্য সকল স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।