লন্ডন নগর পুলিশের ওয়েবসাইটে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হলেন ৩১ বছর বয়সি শওকত আহমেদ এবং ৩৪ বছর বয়সি জাহিদুল হাসান জায়গীরদার। পুলিশ তাদের ছবি প্রকাশ করে জনসাধারণের কাছে তথ্য চেয়েছে। পাশাপাশি তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে বিভিন্ন পর্যায়ে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
পুলিশের ধারণা, শওকত আহমেদ এখনো যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অন্যদিকে জাহিদুল হাসান জায়গীরদারেরও ওই এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। তবে তিনি যুক্তরাজ্য ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট লন্ডনের বেথনাল গ্রিন এলাকায় ১৩ বছর বয়সি এক কিশোরী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সময়, স্থান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
ভুক্তভোগী কিশোরীর বর্ণনা অনুযায়ী, ওই দিন রাতে হোয়াইটচ্যাপেল রোড এলাকায় দুই ব্যক্তি তাকে বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করে উইভার্স ফিল্ডস নামের একটি পার্কে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে এক পথচারী তাকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পার্ক ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি ফরেনসিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন ধরনের অনুসন্ধান চালানো হয়, যাতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
তদন্তের অগ্রগতির অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পুলিশ জনসাধারণের কাছে তথ্য চেয়ে প্রকাশ্যে আবেদন জানায়। ওই আবেদনের পর সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে নতুন কিছু তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে তদন্তকারীরা শওকত আহমেদ ও জাহিদুল হাসান জায়গীরদারকে শনাক্ত করেন। তবে এখনো তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে এবার পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ক্রাইমস্টপার্স। তাদের অবস্থান, যাতায়াত কিংবা পরিচিতজনদের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারলে ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।
ক্রাইমস্টপার্সের লন্ডন অঞ্চলের ব্যবস্থাপক অ্যালেক্সা লুকাস বলেন, কিশোরীটি অত্যন্ত ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক হামলার শিকার হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা তদন্তের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও তাদের খুঁজে বের করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তদের অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে সামান্য কোনো তথ্য থাকলেও তা তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এমনকি ছোট কোনো সূত্রও তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সহায়তা করতে পারে। যারা তথ্য দেবেন, তাদের পরিচয় গোপন রাখার নিশ্চয়তাও দিয়েছে সংস্থাটি।
লন্ডন পুলিশও অভিযুক্তদের সন্ধানে স্থানীয় বাসিন্দাসহ সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে। বিশেষ করে টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় তাদের যাতায়াত বা অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে তথ্য থাকলে তা তদন্তকারীদের জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তবে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাদের অবস্থান শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, দুজনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।


