নাটোরের লালপুরে অজ্ঞাত একটি অটোভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ (১৮) নামের এক তরুণ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১১টার দিকে লালপুর থানার শিমুলতলা পুলিশ চেকপোস্টের অদূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল্লাহ উত্তর লালপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত শহিদুজ্জামানের ছেলে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, তিনি মোটরসাইকেল চালিয়ে লালপুর থেকে গোপালপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে শিমুলতলা পুলিশ চেকপোস্টের প্রায় ৫০ গজ উত্তরে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অজ্ঞাতনামা অটোভ্যানের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের পর আব্দুল্লাহ মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কের ওপর পড়ে যান। এতে তার মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত লাগে। দুর্ঘটনার পরপরই নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয় বলে স্থানীয়রা জানান। ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং চিকিৎসার জন্য লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করেন। সকাল ১১টার দিকে চিকিৎসক আব্দুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। দায়িত্বরত চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় পাওয়া আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে লালপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি পরিদর্শন করে। দুর্ঘটনার পর অটোভ্যানটি ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। ফলে সেটি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার বিষয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ না থাকায় তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ওসি বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাত অটোভ্যানটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
মাত্র ১৮ বছর বয়সী এক তরুণের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে উত্তর লালপুর এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সড়কে মোটরসাইকেল ও অটোভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনের চলাচল বাড়ার সঙ্গে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনায় দুর্ঘটনার কারণ শনাক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহন শনাক্তের পাশাপাশি সড়কে চালকদের সতর্কতা, নিয়ন্ত্রিত গতি ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।


