দেশজুড়ে তীব্র দাবদাহের মধ্যে বিদ্যুৎ খাত থেকে আসা দুঃসংবাদ কিছুতেই থামছে না। এবার কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত মাতারবাড়ী ১,২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটে আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে কেন্দ্রটির সংশ্লিষ্ট ইউনিটটিতে কারিগরি সমস্যা দেখা দিলে পাওয়ার জেনারেটর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জাতীয় গ্রিডে এক ধাক্কায় অন্তত ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটটি পুরোপুরি সচল রয়েছে এবং সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালন অব্যাহত রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুর ২টা ৫৯ মিনিটে সচল ইউনিটটি থেকে জাতীয় গ্রিডে মোট ৫৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। আকস্মিক বিকল হয়ে যাওয়া প্রথম ইউনিটটির সুনির্দিষ্ট যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত করার পাশাপাশি তা দ্রুত নিরসনে কেন্দ্রে কর্মরত দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞ প্রকৌশলী ও কারিগরি টিম অবিরাম কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল সূত্রে জানানো হয়েছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে, অর্থাৎ আজকের মধ্যেই পুনরায় চালুর জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব সংযোগ পুনর্প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবশ্য জাতীয় গ্রিডে ইউনিটটি ঠিক কখন থেকে পুরোদমে উৎপাদনে ফিরতে পারবে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে চলমান মেরামতকাজের অগ্রগতি ও চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফলের ওপর।
বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ খাতের প্রাথমিক জ্বালানি সংকট এবং কয়লা সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে বেশ কয়েকটি বড় কেন্দ্র থেকে সক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। তার ওপর দেশের অন্যতম বৃহৎ ও আধুনিক এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি বড় ইউনিট বন্ধ হওয়ার কারণে পিক-আওয়ারে বিদ্যুৎ ঘাটতি আরও প্রকট হতে পারে। এতে করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের মফস্বল ও গ্রামীণ এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা আগের চেয়ে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে, যা সাধারণ মানুষের জনজীবন ও শিল্প উৎপাদনকে নতুন করে ভোগান্তিতে ফেলতে পারে।

