খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ৮:১৩ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের একটি কক্ষে দুই বহিরাগত অতিথির আপত্তিকর ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। হলের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের রুমে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার কথা জানাজানি হওয়ার পর ক্যাম্পাসজুড়ে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হল প্রশাসন এজিএস ইব্রাহীম খলিলের আবাসিক সিটটি সাময়িকভাবে বাতিল ঘোষণা করেছে এবং ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার সন্ধ্যায়, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সম্পর্কিত একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, গত ২৭ জুলাই এজিএস ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে অবস্থান নেওয়া দুই বহিরাগত যুবক নিজেদের অপকর্মের কথা স্বীকার করছেন। এ সময় ভিডিওটি প্রকাশ্যে না আনার আকুতি জানিয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের কাছে তাঁদের ক্ষমা চাইতেও দেখা যায়।
এজিএস ইব্রাহীম খলিলের রুমমেট ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থী অনয় চৌধুরী ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি জানান, গত ২৭ জুলাই চিকিৎসার কথা বলে খলিলের কক্ষে এসে ওঠেন ওই দুই পরিচিত ব্যক্তি। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁদের কক্ষে আপত্তিকর ও অনৈতিক অবস্থায় প্রত্যক্ষ করা যায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের ধারণ করা পূর্ণাঙ্গ ভিডিওটি জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রত্যক্ষদর্শীদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন এজিএস ইব্রাহীম খলিল। নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বার্তায় তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি তাঁর কক্ষে ঘটলেও তিনি এর কিছুই জানতেন না। অসুস্থতার কারণে ঢাকা আসা পরিচিতদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কক্ষে থাকার জায়গা দিয়েছিলেন তিনি। ঘটনার সময় তিনি নিজে কক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন এবং পরবর্তীতেও কেউ তাঁকে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। তিনি অপরাধমূলক এই কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।
অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আলোচনা চলাকালে ইব্রাহীম খলিল একটি অডিও কল রেকর্ড প্রকাশ করেন। সেখানে এক অভিযুক্ত অতিথিকে বলতে শোনা যায়, তাঁরা ‘শয়তানের ধোঁকায় পড়ে’ অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন, তবে কাজ শেষ করার আগেই রুমমেট সরাসরি দেখে ফেলায় পুরো প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়। অডিও রেকর্ডে ইব্রাহীম খলিলকে এ ব্যাপারে অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করতেও শোনা যায়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের বহুল আলোচিত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শহীদুল্লাহ হলের এজিএস পদে জয়ী হন ইব্রাহীম খলিল। তিনি সংগঠনটির একজন সক্রিয় কর্মী বলে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহা. মহিউদ্দিন খান।
প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূইয়া জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইব্রাহীম খলিলের হলের বরাদ্দকৃত সিটটি আপাতত সাময়িক বাতিল করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে, যার প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী চূড়ান্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হল সংসদের ভূমিকার বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) তৌকির হাসান জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এজিএসের কাছে ইতোমধ্যেই ঘটনার প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা চাওয়া হয়েছে। এজিএস এবং তাঁর রুমমেটের লিখিত বক্তব্য বিশ্লেষণের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে শনিবার রাতেই এ খবর হলে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। রাত সোয়া ১০টার দিকে শহীদুল্লাহ হলের পুকুরপাড়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী জমায়েত হন। হলের শান্তিপূর্ণ ও নৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার দাবিতে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
মন্তব্য