খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
রাজধানীর শাহবাগ এলাকার পৃথক তিনটি ফুটপাত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১২ জুলাই ২০২৬) সকাল ও দুপুরের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং এর আশেপাশের এলাকা থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। একই দিনে এবং প্রায় কাছাকাছি এলাকার ফুটপাত থেকে এভাবে তিনটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় পথচারী ও বাসিন্দাদের মধ্যে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শাহবাগের আনন্দবাজার সড়ক, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের আশপাশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের সামনের সড়কের ফুটপাতে এই তিন ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পৃথক তিন স্থানে তাদের দীর্ঘক্ষণ নিথরভাবে পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হলে সাধারণ পথচারীরা তাৎক্ষণিকভাবে শাহবাগ থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।
খবর পেয়ে শাহবাগ থানার পুলিশের পৃথক দল দ্রুত ঘটনাস্থলগুলোতে পৌঁছায়। পুলিশ সদস্যরা সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশ থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেন। এরপর বেলা ১১টার দিকে আনন্দবাজার ও অমর একুশে হলের সামনের ফুটপাত থেকে বাকি দুজনকে উদ্ধার করা হয়। তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। মৃতদের মধ্যে দুজনের বয়স আনুমানিক ৫৫ ও ৬০ বছর বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্যজনের বয়সও তাদের কাছাকাছি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সুরতহাল প্রতিবেদনের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের বরাতে তিনি জানান, মৃত ব্যক্তিদের শরীরে কোনো আঘাত বা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র গরম কিংবা নানাবিধ শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে রাস্তায় তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, মৃত ব্যক্তিদের কাছে তাদের নাম-ঠিকানা বা পরিচয় জানার মতো কোনো পরিচয়পত্র বা নথিপত্র পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ও আশেপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ধারণা করা হচ্ছে, তারা সবাই ওই এলাকায় আশ্রয় নেওয়া বাস্তুহীন বা ভবঘুরে ছিলেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এবং আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) সংগ্রহের মাধ্যমে তাদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। পরিচয় পাওয়া গেলে পরিবারের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হবে।