পিরোজপুরের নাজিরপুরে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে সপরিবারে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে ওই শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হবে বলে ফোনে হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক কিশোর কুমার হালদার বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নাজিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। বিষয়টি ওই দিন রাতে নিশ্চিত করেন নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম।
কিশোর কুমার হালদার (৫৪) উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বৈবুনিয়া গ্রামের নিরোদ বিহারী হালদারের ছেলে। তিনি নাজিরপুর উপজেলার শাঁখারীকাঠী ইউনিয়নের ৯৫ নম্বর বুড়িখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে তাঁর মোবাইল ফোনে কল আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। একই সঙ্গে জানানো হয়, আগামী শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এর মধ্যে ওই টাকা পরিশোধ করতে হবে।
টাকা না দিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। কিশোর কুমার হালদার জানান, ফোনে তাঁকে বলা হয়, তাঁর পরিবারকে পুড়িয়ে হত্যার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২০ লাখ টাকা না দিলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের পুড়িয়ে মারা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
এমন হুমকির পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন ওই শিক্ষক। তিনি জানান, আতঙ্কের কারণে বুধবার রাতে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাঁর একমাত্র মেয়ে সুপ্তি হালদার মিকিকে নিয়ে অন্যের বাড়িতে রাত কাটিয়েছেন। হুমকির বিষয়টি জানার পর পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
কিশোর কুমার হালদার আরও জানান, গত বছর তাঁর চাচাতো ভাই সঞ্জীব হালদারকে হত্যা করে সড়কের পাশে ফেলে রেখে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। পরিবারের একজন সদস্যের এমন মৃত্যুর ঘটনার পর নতুন করে পাওয়া প্রাণনাশের হুমকি তাঁকে আরও আতঙ্কিত করে তুলেছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, যে নম্বর থেকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়েছে, সেটি বিদেশি অথবা ইন্টারনেটভিত্তিক নম্বর হতে পারে। নাজিরপুর থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ওই প্রধান শিক্ষক থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। হুমকির বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফোনকলের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়নি।
প্রাণনাশের নির্দিষ্ট হুমকি এবং টাকা পরিশোধের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়টি অভিযোগটির গুরুত্ব বাড়িয়েছে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


