মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশুর ধর্ষণ মামলার আসামি জামিন পেয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়াও ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এবং ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সুজয় কুমারের কাছে গেলে তিনি উভয় পক্ষকে ডাকেন এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদীকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পরে এ ঘটনা জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) রাতে অভিযোগের ভিত্তিতে মেহেরপুর সদর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্র-জনতা।
জানা গেছে, মেহেরপুর সদর উপজেলার একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বসবাসকারী ৯ বছরের শিশুটিকে ধর্ষণ করে মদনাডাঙ্গা গ্রামের বায়েজিদ নামের এক যুবক। ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও ধারণ করে বায়েজিদের সঙ্গী আলামিন হোসেন।
এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদি হয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ, আলামিন ও বরকত আলী নামে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। আসামিরা গ্রেপ্তার হয়ে কয়েক মাস হাজতবাসের পর জামিনে মুক্ত হন। ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের হুমকি দিয়ে বাদীকে মামলা তুলে নিতে বলে আসামিরা। এছাড়া তারা ব্ল্যাকমেইল করে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর এক পর্যায়ে তারা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
এ ঘটনায় ধর্ষণ মামলার বাদী প্রতিকার চেয়ে মেহেরপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি মীমাংসার জন্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদর থানার এসআই সুজয় কুমার উভয় পক্ষকে নিয়ে থানায় বসেন। এ সময় এসআই সুজয় কুমার ধর্ষণ মামলার আসামিদের পক্ষ থেকে বাদীকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেন।
ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে খবর পেয়ে থানায় গিয়ে প্রতিবাদ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী তুষার ও সিয়াম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই সুজয় কুমার থানার মধ্যেই তুষার ও সিয়ামকে মারধর করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে থানা ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানান। এসআই সুজয় কুমার ও ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক সাজার দাবিতে থানা ও থানার আশেপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্র-জনতা।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেনাবাহিনীর একটি দল থানায় গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। সেখানে উপস্থিত হয়ে মেহেরপুর পুলিশ সুপার মাকছুদা খানম বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতাকে শান্ত করতে চাইলেও ভুয়া স্লোগান দিয়ে পুলিশ সুপারের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত ছাত্ররা তিনটি শর্তের ভিত্তিতে এক ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়। রাত সাড়ে ১২টার সময় পুলিশ সুপার এসআই সুজয়কে বরখাস্ত করার ঘোষণা দিলে ছাত্ররা থানা চত্বর ত্যাগ করে।
পুলিশ সুপার মাকসুদা আখতার খানম বলেন, ছাত্রদের দাবি অনুযায়ী উপপরিদর্শক (এসআই) সুজয় কুমার মল্লিককে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ লাইনে বন্দী করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযুক্ত অন্য দুজনকে আটক করতে সেনাবাহিনীসহ পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
খবরওয়ালা/জেআর



