“শেখ হাসিনা: আইনের অনাবিল অরুণিমায়”

ফ্রান্স প্রবাসী আইনের অধ্যাপক বিল্লাহ মাসুম শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে একটি বিশাল লেখা দিয়েছেন তা পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো। 

বাংলাদেশ নামের এই মায়াময় দেশের জন্মের একটা আইনি দিক রয়েছে। পৃথিবীর যে রাষ্ট্রগুলো যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে তাদের মধ্যে বোধ করি বাঙলাদেশ একমাত্র দেশ, যে দেশের মানুষ একদিকে যেমন দিগ্বিদিক দামামা বাজিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে রক্ত দিয়েছে, অন্যদিকে এই রাষ্ট্রের মহত্তম কারিগরেরা এর জন্মের আইনি বৈধতার ব্যাপারটি অতি সুনিপুণভাবে নিশ্চিত করেছেন। স্বাধীনতার অমোঘ ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে আমাদের পূর্বপুরুষেরা আন্তর্জাতিক আইনের নব নব দিগন্তের ধারা অবমুক্ত করেছেন। বাঙালির জন্যে পৃথক একটি রাষ্ট্র বানানোর প্রক্রিয়া ছিলো পৃথিবীর বুকে বাঙলাদেশ কর্তৃক আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রয়োগের প্রথম উদাহরণ। তেমনি করে এই স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বরাতেই আমরা এককভাবে স্বাধীনতা ঘোষণার বৈধতা, আন্তর্জাতিক রাষ্ট্র-স্বীকৃতির নীতি এবঙ ন্যায্য সরকার পাবার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলাম।

স্বাধীন দেশে হেমন্তের এক মিষ্টি বিকেলে মাত্র নয় মাসে আমরা গেঁথেছিলাম আমাদের রক্ত, ঘাম ও অশ্রুভেজা সংবিধান। আমরা যাতে করে “স্বাধীনসত্তায় সমৃদ্ধি লাভ” করতে পারি, সেই জন্যে “মানবজাতির প্রগতিশীল আশা আকাঙ্খার সাথে সঙ্গতি” রেখে আন্তর্জাতিক সংবিধানিকতাবাদ-এর প্রতিচ্ছবি হয়ে আমরা তৎকালীন জমানার অন্যতম প্রাগ্রসর ওই ১৯৭২ সনের সংবিধান নিজেদেরকে দিয়েছিলাম। সেটা ছিল উদার অর্থে আমাদের রাষ্ট্রের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই জাতিকে দিয়ে যাওয়া শ্রেষ্ঠতম উপহার, যার ৭ নম্বর অনুচ্ছেদে এখনো জ্বলজ্বলে অক্ষরে লেখা আছে:

“প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ …
জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন”।

ইচ্ছে করলে তিনি সেদিন কোনো সংবিধান না দিয়েই, কোনো নির্বাচন না দিয়েই, পাকিস্তানের ভুট্টো-এহিয়া মডেলে এই রাষ্ট্রকে এককভাবে শাসন করতে পারতেন।

আমাদের সংবিধানের ডালায় ও নকশায় রয়েছে শিল্পাচার্যের তুলির আঁচড়, নমস্য বাঙলা অধ্যাপকের সৃষ্টিশীল মনন, সাহিত্যিক ও বাঙলা ভাষার পন্ডিতদের প্রজ্ঞার প্রয়োগ, রবীন্দ্রনাথের গানের কলি, মহত্তম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হাতের পরশ ও স্বাক্ষর। শব্দের পিঠে শব্দ বিন্যাসিত হয়ে এক ভাষার শোভাযাত্রা তৈরী করেছে সংবিধানের বাংলা পাঠ। সন্নিবেশিত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ এবঙ মৌলিক অধিকারগুলো পড়লে এটা টের পাওয়া যায়।

১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ দেশের আইনি উন্মেষে এক বিতর্কিত ও অন্ধকার অধ্যায়। যে আইনি ভিত্তির কথা উপরে বললাম, এতে আমাদের সুন্দর একটি আইনি সংস্কৃতি পাবার কথা ছিলো।

কিন্তু তা হয়নি।

১৯৯৬-এর ১২ জুনের ঐতিহাসিক নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় এসে পিতৃ-হত্যার বিচার করার জন্যে আগে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করতে হয়, বিএনপি-জামাত সেদিন সংসদে অনুপস্থিত থাকে এবঙ হরতাল ডাকে। খুনি শাহরিয়ার রশিদ ইনডেমনিটি আইন বাতিলকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করে হেরে যায়। এবঙ শেখ হাসিনাকে এগুলো চেয়ে চেয়ে দেখতে হয়। ইচ্ছে করলে তো তিনি বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করে জেনারেল জিয়ার কায়দায় খুনিদেরকে অবলীলায় ফাঁসি দিতে পারতেন। স্মর্তব্য যে, জেনারেল জিয়ার আমলে সামরিক ট্রাইবুনালে বিচারের নামে বিপুলসংখ্যক সামরিক সদস্য, যাঁদের মধ্যে বহু মুক্তিযোদ্ধাও ছিলেন, মৃত্যুদণ্ডের শিকার হন।

অথচ প্রচলিত সাধারণ ফৌজদারি আদালতে জাতির পিতার হত্যার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যে দৃষ্টান্ত শেখ হাসিনা রেখেছেন, শুধু এই কারণেই বাঙলাদেশের মানুষের কাছে শেখ হাসিনা নিরন্তর ধন্যবাদ দেয়া উচিত। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে আইন মন্ত্রী মওদুদ আহমেদের সময় উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগ-সংকটের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আপিল শুনানি দীর্ঘদিন আটকে থাকে। এবঙ নয় বছর পর ২০০৯ সালে আবার ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনাকে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের কয়েকজনের ফাঁসি নিশ্চিতের অপেক্ষা ফুরোয়।

অথচ তখন লোকে তাঁকে প্রতিশোধপরায়ণ হিসেবে আখ্যা দ্যায়! এবঙ আমরা তাঁকে আইনের শাসনের সবক দিতে থাকি!

কী বিচিত্র এই দেশ!

১৯৯৬-এর গঙ্গা চুক্তিতে ভারত থেকে পানি আসার একটি দীর্ঘমেয়াদি আইনি কাঠামো তৈরি হয়, যার মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত। নতুন চুক্তি বা ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত এর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা প্রয়োজন। ১৯৯৭-এর ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পাহাড়ি-বাঙালি সংঘাতের রক্তপাতের ধারা বন্ধ করার পথ তৈরি হয়। বিএনপি এই শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে হরতাল করে, লংমার্চ করে, কিন্তু আর কিছু করেনা। এরা অনেকটা মাথা গুঁজে স্ত্রীর আয় খাওয়া অপারগ গৃহকর্তার মতো, যারা স্ত্রী বাইরে কেন গেছে এই অভিযোগে রাগে গজ গজ করে। কিন্তু আর কিছু করেনা। এরা তথ্য-প্রযুক্তি বিপ্লবকে ধারণ করেনা, কিন্তু হাসিনার নিন্দায় একে ব্যবহার করে।

১৯৭৪ এর জাতির জনকের করা ইন্দিরা মুজিব চুক্তি ২০১৬ সালে ভারতের পার্লামেন্ট অনুমোদন করে। দীর্ঘ আটষট্টি বছরে ঝুঁলে থাকা ছিটমহলবাসি দেশহীনতার অভিশাপ মুক্ত হয়।

১৯৯৬-এর শেখ হাসিনা সরকার আইন কমিশন আইন করে আইন সংস্কারে এর অঙ্গীকার আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে নিয়ে আসে। স্থানীয় সরকার-সংক্রান্ত আইন, খাস জমি বন্দোবস্ত নীতিমালা, ২০০০ সালের আইনগত সহায়তা আইন, একই বছরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০১-এর অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন ওই সময়কার শেখ হাসিনা সরকারের ঝুলিতে নতুন অর্জন হিসেবে যুক্ত হয়। এই সময়ে ১৯৬৬-এর দুই যমজ মানবাধিকার দলিল—আইসিসিপিআর এবঙ আইসিইএসসিআর-এর সঙ্গে বাঙলাদেশ যথাক্রমে ২০০০ ও ১৯৯৮ সালে যুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আমাদের সংবিধানের যে প্রতিশ্রুতি তা সুউচ্চে তুলে ধরে। এই সময়েই, ২০০১ সালে, বাঙলাদেশ জাতিসঙ্ঘের সমুদ্র আইন বিষয়ক কনভেনশন (১৯৮২) অনুসমর্থন করে, যেটা পরবর্তীতে ভারত ও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সমুদ্র-বিরোধ নিষ্পত্তিতে আন্তর্জাতিক আইনের দরজা উন্মুক্ত করে দিতে সাহায্য করে।

বাঙলাদেশের ৫৫ বছরের আইনি ইতিহাসকে যদি দুটো পর্বে ভাগ করি তাহলে বোধ হয় আমরা এভাবে বলতে পারবো: একটা ২০০৯ পূর্ব সময় আর একটা ২০০৯ পরবর্তী সময়। কেননা, এই ২০০৯ সালেই মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন উদ্দীপক কিছু আইন বাঙলাদেশ প্রণয়ন করেছে। দ্যাখা যায়, পরবর্তী সময়ে প্রণীত অনেক আইনের প্রস্তাবনায় সংবিধান, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের দোহাই দেয়া হয়, যেটা আগে এতটা দৃশ্যমান ছিলোনা। এই ধারা নতুন স্বদেশী আইনবিজ্ঞান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করে। এসব থেকে যতটুকু আইনি বাত্তিজ্বালানি (Legal Enlightenment) ঘটে, তা ধুলোয় মিশিয়ে দেয় ইউনূস প্রশাসন, অধ্যাদেশের পর অধ্যাদেশ জারি করে।

২০০৯-এর ত্রয়ী আইন—জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, তথ্য অধিকার আইন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন—এই সারিতে অগ্রগামী। সামরিক আদেশের রাহুমুক্ত করে সংবিধানে ২০১১ সালে পনেরোতম সংশোধনীর মাধ্যমে ফিরে আসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাঙলাদেশ এবঙ এর চারটি স্থায়ী বুনিয়াদ: বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র।

পনেরোতম সংশোধনীর হাত দিয়ে বেশ কিছু ব্যাপারের সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অথচ কম প্রশংসিত বিষয় সংবিধানে ঠাঁই পায়। এর একটি হলো “উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়”-এর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিধান (অনুচ্ছেদ ২৩ক) এবঙ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিধান (অনুচ্ছেদ ১৮ক)।

নির্যাতন এবঙ হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন (২০১৩), বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন (২০১৩), ২০১৩ সালের শিশু আইন ও ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য আইন, উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ আইন ২০১৯ ইত্যাদি আইন প্রণয়ন দেশীয় অবস্থানে থেকে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের কাছাকাছি যাবার প্রয়াস বলে ভাবা যেতে পারে। ২০১৮ সালের দুর্যোগ মোকাবেলা আইন তৈরি করে বাঙলাদেশ দুর্যোগ মোকাবেলায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

১৯৭৩-এ জাতির জনক যুদ্ধাপরাধসহ আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারের আইন করে যান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বড় পরিসরে সেটা করেছে ১৯৯৮ সনে, রোম সংবিধিতে। বাঙলাদেশ রোম সংবিধিতে স্বাক্ষর করে ১৯৯৯ সনে, আর অনুসমর্থন করে ২০১০ সালে। এই আইনি ভিত্তিগুলো না থাকলে বাঙলাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন সংঘটিত আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করা অনেক কঠিন হয়ে উঠতো। এমনকি রামপাল প্রকল্পে যাঁদের আপত্তি, তাঁরা যে পরিবেশ বিপর্যয়ের দায়ে শেখ হাসিনাকে জেনেভা নিতে চেয়েছিলেন, সেই আদিখ্যেতাও তাঁরা দেখাতে পারতেন না।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনবিজ্ঞানে আজ বাঙলাদেশ অন্যতম একটা অধীত নাম। অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অধ্যাপক আসিফ নজরুলের আইন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সেই আইনে একাধিক পরিবর্তন এনে সেই আইনই শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাদের বিচারে ব্যবহার করা হয়েছে। তার ধারাবাহিকতা কিভাবে চলছে আপনারা এখনো দেখছেন। জলের দরে ফাঁসির আদেশ হচ্ছে আইসিটি দিয়ে।

বঙ্গবন্ধু শিশু আইন করেন ১৯৭৪ সনে, শেখ হাসিনাকে ২০১৩ সনে এসে সেটাকে যুগোপযোগী করতে হয়। বঙ্গবন্ধু সমুদ্র আইন করেন ১৯৭৪ সনে, শেখ হাসিনার সরকারকে পরে সেটা যুগোপযোগী করতে হয়েছে “নীলাভ অর্থনীতির” (Blue Economy) হাতছানি দেয়া অবারিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্যে। জাতিসঙ্ঘ সমুদ্র কনভেনশন (১৯৮২) অনুসমর্থনের পরে দেশের দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা সমুদ্রভাগ্য নির্ধারণে বাজি ধরতে হয়। এর ফলশ্রুতিতেই, ২০১২ ও ‘১৪ সালে বাঙলাদেশ সমুদ্র বিষয়ক জিঁয়ে থাকা বিরোধ যথাক্রমে মিয়ানমার ও ভারতের সাথে আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে—ইটলস ও সালিশ ট্রাইব্যুনালে—সুষ্ঠুভাবে সমাধান করতে সমর্থ হয়। এতে করে বাঙলাদেশের সামনে সমুদ্র সম্পদে প্রবেশ্যতার অবারিত দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে।

বাঙলাদেশের সামুদ্রিক আইন কাঠামো তৈরিতে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত আগ্রহ তাঁকে অন্য রাজনীতিক থেকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে। সমুদ্র আইন ২০২১ প্রণয়ন করে দারুণ একটি আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্র আইন করে গেছেন শেখ হাসিনা। আইনটিতে হাই সীর ‘গ্লোবাল কমন্স’-এর ধারণা বিবৃত আছে।

বিবিএনজে চুক্তির খসড়া প্রণয়নের আলোচনায় বাঙলাদেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। এখানে, বিএনপি-জামাত জোট সরকারের তোপের শিকার, কিন্তু শেখ হাসিনার হাতের জহুরি কমোডোর খুরশেদ আলম বাঙলাদেশের অধিকারের প্রশ্নে অনেক উচ্চকন্ঠ ছিলেন। বিশেষ করে, মেরিন জেনেটিক রিসোর্স, মেরিন টেকনোলজি হস্তান্তর, ক্যাপাসিটি বিল্ডিং এবঙ ইম্প্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট-এর ক্ষেত্রে বাঙলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরে। বাঙলাদেশ ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বিবিএনজে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে এবঙ ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর অনুসমর্থনপত্র জাতিসঙ্ঘে জমা দেয়। অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বাঙলাদেশের হয়ে এই অনুসমর্থনপত্র জাতিসঙ্ঘকে হস্তান্তর করেন। কিন্তু এর পেছনে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দীর্ঘদিন ধরে চলা বাঙলাদেশের আলোচনা ও কূটনৈতিক ভূমিকার কথা তিনি তখন চেপে যান।

এই যে দৃষ্টান্ত দিলাম, বাঙলাদেশের আর কোন রাজনৈতিক নেতা এই সিদ্ধান্ত নিতেন বলে আমার বিশ্বাস হয়না। জনগণের স্বার্থ জড়িত, অথচ শেখ হাসিনা চুপ থাকবেন এমনটি হবার নয়। শেখ হাসিনা এমন এক রাজনীতিক হতাশা যাঁকে মানায়না।

লেখাটি বড়ো হয়ে যাচ্ছে। শেষ করবো। একটি ঘটনা উল্লেখ করে শেষ করবো।

এই সমাজ কুষ্ঠ রোগীদের একসময় দূর দূর করে তাড়িয়ে দিতো। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের আগের একটি ঘটনা। ১৮ জন কুষ্ঠ রোগী কমলাপুর রেললাইনের ধারে অপেক্ষা করছিলেন। কেউ তাদের ছুঁয়ে দেখেনা। শেখ মুজিবের মেয়ে সব অচলায়তন ভেঙে সেই কুষ্ঠ রোগীদের সঙ্গে বসে ভাত খেয়েছিলেন। ক্ষমতায় এসে, গাজীপুরের বান্দবাড়িতে তাদের জন্য ‘প্রত্যাশা’ নামে আবাসনের ব্যবস্থা করেছিলেন। ১৮৯৮ সালে ব্রিটিশ কর্তৃক প্রণীত কুখ্যাত লেপার্স আইন, যা কুষ্ঠ রোগীদের পৃথকীকরণ ও বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার আইনি ভিত্তি দিয়েছিলো, শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালে ‘লেপার্স (রিপিল) অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে বাতিল হয়। দেখুন, শেখ হাসিনার আইনি মানস এবঙ প্রান্তিক মানুষের প্রতি খেয়াল।

এ রকম আমি একশো উদাহরণ দিতে পারবো।

এই সুন্দরতম বিষয়গুলো এমনি এমনি ঘটতে পারেনা, ঘটেনা। এর পেছনে কিছু মানুষের সুন্দর মন থাকতে হয়, মেধা-মনন, ভাবনা, আকাঙ্খা-খেয়াল থাকতে হয়। এই “খেয়াল” থাকাটাই শেখ হাসিনার রাজনীতিকে অন্য রাজনীতিক-এর রাজনীতি থেকে স্বতন্ত্র ও মহিমাউদ্ভাসিত করেছে।

আপনি শেখ হাসিনার নামে চাইলে দুর্নাম করতে পারবেন। সেদিন জন্ম নেয়া ছেলে-মেয়েরা ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের প্রতিবাদের মিছিল দিয়ে যে রাজনীতিকের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়েছিল, কত সহজে তাঁকে অবমানিত করে ফ্যালে। অথচ, এখানে আমি দেখালাম মানবাধিকারমুখী জনগণের ক্ষমতায়নমাখা কত অনাবিল আলোকময় সুন্দর আইনি অবদান তাঁর রয়েছে।

শেখ হাসিনা বহু গৌরবান্বিত অর্জনের মধ্যে আমাদের সমৃদ্ধতর আইনি সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। আপনি নীরোগ ও দীর্ঘায়ু হোন। শুভ জন্মদিন দেশরত্ন!

মানুষ আপনাকে ভালোবাসে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।