শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় পৃথক মর্মান্তিক ঘটনায় দুই শিশুসহ চারজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। রোববার দিনগত গভীর রাতে একটি পুকুর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ থাকা দুই শিশুর মৃতদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি উপজেলার দুটি ভিন্ন স্থান থেকে আরও দুই নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই দিনে চারজনের এই আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক ও চাঞ্চল্য।
নিহত দুই শিশুর পরিচয় নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। তারা হলো উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের মধ্য নাকশী গ্রামের হযরত আলীর সাত বছর বয়সী ছেলে রোহান এবং একই গ্রামের এবাদুল ইসলামের ছয় বছর বয়সী ছেলে ইসমাইল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার দুপুর ১২টার দিকে শিশু রোহান ও ইসমাইল বাড়ি থেকে একসাথে খেলতে বের হয়। তবে সময় গড়িয়ে বিকেল হলেও তারা ঘরে ফিরে আসেনি। এতে পরিবারের সদস্যদের মনে উৎকণ্ঠা জাগে। স্বজনেরা গ্রামের সম্ভাব্য সব জায়গায় এবং পরিচিতদের বাড়িতে দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান মেলাতে পারেননি। অবশেষে দিনগত রাত আনুমানিক সাড়ে আড়াইটার দিকে মধ্য নাকশী গ্রামের একটি পুকুরের পানিতে স্থানীয় এক পথচারী দুই শিশুর লাশ ভাসতে দেখে চিৎকার দেন। পরে গ্রামের লোকজন এসে পুকুর থেকে রোহান ও ইসমাইলের নিথর দেহ উদ্ধার করেন। ছোট দুই শিশুর এমন করুণ পরিণতিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা।
এদিকে, একই দিনে নালিতাবাড়ী উপজেলার অন্য দুটি এলাকা থেকে আরও দুই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে একজন হলেন তন্তর গ্রামের কামরুল ইসলামের ১৫ বছর বয়সী মেয়ে কামরুন নাহার শাকিলা। অপরজন নয়াবিল গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ৬৫ বছর বয়সী স্ত্রী নুর জাহান বেগম। এই দুই মৃত্যুর পেছনে সুনির্দিষ্ট কী কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানান প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, অসাবধানতা ও সাঁতার না জানার কারণে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিশু দুটির লাশ ইতোমধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া অপর দুই নারীর মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে এবং থানায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। লাশগুলোর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্ত শেষে এই বিষয়ে স্পষ্ট জানা যাবে।



