খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে বৈশাখ ১৪৩২ | ১২ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার পর দলটির নেতাকর্মীদের সম্ভাব্য নাশকতা মোকাবিলায় রাজধানীসহ সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী নেতাকর্মীরা দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাতে পারে। সোমবার (১২ মে) দেশের একটি শীর্ষ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে দেশে নাশকতা করতে পারে বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, দলের নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকে নেতাকর্মীরা গোপনে সাইবার যোগাযোগ, অনলাইন সংগঠিতকরণ এবং ঝটিকা মিছিলে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সারা দেশের রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং জেলার এসপিদের সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বিশেষ নজরদারি চলছে।
পুলিশের উচ্চ পর্যায় থেকে মাঠপর্যায়ে স্পষ্ট নির্দেশনা পৌঁছেছে—নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করতে হবে।
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, ‘ঢাকা এরিয়ায় নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো কার্যক্রম সহ্য করা হবে না। কেউ করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সদস্যদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, কেউ শিথিলতা দেখালে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার এসএন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রকাশ্য বা গোপন কোনো তৎপরতা বরদাশত করা হবে না। সাইবার জগতে তাদের তৎপরতার ওপরও নজরদারি চলছে।’
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর তারা গোপন দেশবিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। আমাদের হাতে তাদের একটি তালিকা আছে। তালিকা ধরে গ্রেফতার কার্যক্রম চলছে। ঝটিকা মিছিলের ভিডিও দেখে চিহ্নিত করে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনলাইনে সক্রিয় থাকার কারণে আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আলম মুরাদ, সাবেক এমপি শামীমা শাহরিয়ার, সেলিনা ইসলাম, শেখ হাসিনার সাবেক প্রেস সহকারী মো. আশরাফ সিদ্দিকী বিটু, এবং কুমিল্লার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুস ছোবহান ভূঁইয়াসহ অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছেন।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে। আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী কর্মীদের অবস্থান শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঢাকার বাইরে থেকেও বিভিন্ন ইউনিট আসামিদের ধরতে সহযোগিতা চাইছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর বলেন, ‘যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এমন চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতৎপরতা বন্ধে সাইবার প্যাট্রোল জোরদার করা হয়েছে।’
ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ‘সংঘবদ্ধভাবে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা বিনষ্ট, ঝটিকা মিছিল এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ২০২৪ সালের গণহত্যা মামলার আসামিদের প্রতিদিনই গ্রেফতার করা হচ্ছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।’
এই পরিস্থিতিতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির কোনো তৎপরতা দেশের কোথাও বরদাশত করা হবে না। আইনের কঠোর প্রয়োগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
সূত্র: যুগান্তর
খবরওয়ালা/আরডি