শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায় বিশেষ অভিযানে পিকআপভর্তি ভারতীয় মদসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে মোট ২৭৩ বোতল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়, যা সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে উপজেলার নয়ানিকান্দা গরুহাটি এলাকায় নিয়মিত চেকপোস্ট ও তল্লাশি অভিযান চলছিল। এ সময় একটি হলুদ রঙের পিকআপ সন্দেহজনকভাবে চলাচল করতে দেখা যায়। পুলিশ গাড়িটিকে থামার সংকেত দিলে ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া দিয়ে তাদের আটক করা হয় এবং গাড়িটি তল্লাশি করলে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ভারতীয় মদ উদ্ধার হয়।
আটক তিনজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা সবাই শেরপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। উদ্ধারকৃত মদের পরিমাণ ও ধরন যাচাই করে পুলিশ জানায়, এগুলো সীমান্তপথ ব্যবহার করে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা হয়েছিল এবং স্থানীয় বাজারে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মদ ও অন্যান্য পণ্যের চোরাচালান একটি বড় সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হবে। তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং চোরাচালান প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের বিবরণ
নাম
বয়স
ঠিকানা
ভূমিকা
রুবেল মিয়া
৪৫
দিঘিরপাড়, ঝিনাইগাতী উপজেলা
পিকআপে থাকা ব্যক্তি
লাল চান
২৩
ঘোমরা গ্রাম, ঝিনাইগাতী উপজেলা
পিকআপে থাকা ব্যক্তি
আলমগীর
২৩
রাংটিয়া গ্রাম, ঝিনাইগাতী উপজেলা
পিকআপে থাকা ব্যক্তি
স্থানীয় প্রশাসনের মতে, সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও কিছু চক্র এখনো সক্রিয় রয়েছে। ফলে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে চোরাচালান চক্রের আরও তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ও মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হবে, যাতে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।